
East Medinipur News: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা পাটের রাখি তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির আবাসনে থাকা এই ব্যক্তিরা নিজেদের হাতে তৈরি রাখির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করছেন।
পূর্ব মেদিনীপুর: অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে পঙ্গুত্বকে হার মানিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা পাটের রাখি তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির আবাসনে থাকা এই ব্যক্তিরা নিজেদের হাতে তৈরি রাখির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করছেন।
পাটের রাখির মাধ্যমে স্বাবলম্বিতা
তমলুকের নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির আবাসনে বসবাসকারী বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা পাটের রাখি তৈরি করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন। একসময় সামাজিক অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটানো এই ব্যক্তিরা এখন পাটের বুননে নিজেদের নতুন ভবিষ্যৎ লিখছেন। রাখীবন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই শিল্পকর্ম তাঁদের শুধু আনন্দই দিচ্ছে না, এনে দিচ্ছে স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয়
কেউ কানে শুনতে পান না, কারও দৃষ্টিশক্তি নেই, আবার কারও দুটি হাতই নেই। তবে তাঁদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়েছে। যাঁদের হাত নেই, তাঁরা পায়ের আঙুল দিয়ে পাটের সুতোয় জটিল নকশা ফুটিয়ে তুলছেন। উৎসবের প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই নিমতৌড়ি হোমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। এই আবাসিকদের দৈনন্দিন লড়াই সমাজের কাছে এক বিরল অনুপ্রেরণা। চলতি বছর রাখীবন্ধন উৎসবে ২৫ হাজার রাখির অর্ডার এসেছে। এর পাশাপাশি বছরে লক্ষ লক্ষ রাখি তৈরি করছেন এই বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা।
সামাজিক বার্তা ও পরিবেশ সচেতনতা
পাটের তৈরি এই রাখিগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই রাখির বুননে ‘মেরা ভারত মহান’, ‘নাবালিকা বিবাহ রোধ’, ‘নেশামুক্ত ভারত’ এবং ‘জল সংরক্ষণ’-এর মতো অঙ্গীকার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর সঙ্গে আসন্ন শারদোৎসবের অগ্রিম শুভেচ্ছাবার্তাও যুক্ত করা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার এই অভিনব প্রচেষ্টা নিমতৌড়ির এই বিশেষ সৃষ্টিকে অনন্য করে তুলেছে।
অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়া
এ বিষয়ে নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির সহ-সম্পাদিকা দেবশ্রী ত্রিপাঠি ব্যানার্জি জানান, বিশেষভাবে সক্ষম বোনেরা তার দিয়ে অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরির পাশাপাশি রাখি তৈরি করেন। সেই রাখি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে ভাগ করে দেওয়া হয়।
(Feed Source: news18.com)
