)
275 kg Teen: সাধারণ কোনও চারচাকার গাড়িতেই ওই কিশোরকে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ওই কিশোর তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। মারাত্মক ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ দেখা দিয়েছিল তার।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আরও এক ‘ইকবাল’-এর গল্প! ওজন তার ২৭৫ কেজি! ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে শেষপর্যন্ত হাসপাতালে আনতে হল ম্যাটাডোর ভ্যান করে। কারণ অন্য কোনও গাড়িতে সে ‘আঁটছিল’ না! এতটাই করুণ পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষে জটিল বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে মেলে সাফল্য। সফল অস্ত্রোপচারের পর আপাতত সুস্থ জীবনে ফেরার পথে ওই কিশোর। এই ঘটনাটি দিল্লির।
অত্যধিক ওজন, আর তার জেরে একাধিক জটিল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। চরম সংকটে পড়েছিল দিল্লির বাসিন্দা ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোর। তার ওজন পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ২৭৫ কেজিতে। যার ফলে বডি মাস ইনডেক্স বা BMI বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০০-র কাছাকাছি। সাধারণ কোনও চারচাকার গাড়িতেই তাকে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত একটি ম্যাটাডোর ভ্যানে করে তাকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। সেখানেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ওই কিশোরের শরীরে অতি জটিল ‘ল্যাপারোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রেক্টমি’ করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভর্তি করার সময় ওই কিশোর তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। মারাত্মক ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ দেখা দিয়েছিল। যা কিনা ওজনের কারণে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার প্রবণতা। সেইসঙ্গে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছিল গুরুতর চর্মরোগও। শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে প্রায় ২ সপ্তাহ পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখেন। সেখানে প্রথমে তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করা হয়। অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তারপর তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
কিশোরের বয়স, শারীরিক ওজন ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার কথা মাথায় রেখে জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল গঠন করা হয়। স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের মেটাবলিক অ্যান্ড ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের ড. দক্ষ শেঠি, ড. সুধীর কলহন, ড. মুকুন্দ খেতান এবং ড. সুভিরাজ জন একত্রে এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। এছাড়াও শিশুরোগ, হৃদরোগ এবং অ্যানাস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞদের দল সক্রিয় ভূমিকা নেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর মাত্র ২ মাসেই ওই কিশোরের ওজন অনেকখানি কমেছে।
২৭৫ কেজি থেকে ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৩ কেজিতে। অর্থাৎ প্রায় ৫০ কেজির মতো ওজন কমেছে। এখন আস্তে আস্তে ওই কিশোর যাতে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেটাই চিকিৎসকদের লক্ষ্য।
(Feed Source: zeenews.com)
