ঘষা খেল লেজ, পর পর ফাটল চারটি টায়ার, শেষে আকাশ থেকে ছড়াতে হল তেল, এ কেমন বিমানযাত্রা?

ঘষা খেল লেজ, পর পর ফাটল চারটি টায়ার, শেষে আকাশ থেকে ছড়াতে হল তেল, এ কেমন বিমানযাত্রা?

 

নয়াদিল্লি: অল্পের জন্য বড় বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো গেল এবার। জার্মানির মিউনিখ থেকে ওড়ার সময় দু’-দু’বার গতি হারাল বিমান। শুধু তাই নয়, আকাশে ওড়ার মুখে চার-চারটি টায়ারও ফেটে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত হল বিমানের লেজও। পরিস্থিতি এমন হয় যে, ওজন কমাতে আকাশেই ডানার সাহায্য়ে জ্বালানি ফেলে দিতে হয়। তদন্তের রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল। (Plane Accident News)

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের Boeing 787-9 বিমানটি ওই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। ১৫ অগাস্ট জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দর থেকে হানয় যাচ্ছিল। বিমানে সওয়ার ছিলেন ২৭১ জন যাত্রী এবং ১৬ জন বিমানকর্মী। দুপুর ১টা বেজে ৪৫ মিনিটে আকাশে ওড়ার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু রানওয়ে থেকে আকাশে ওড়ার সময় বিপত্তি দেখা দেয়। (Vietnam Airlines Boeing 787)

রানওয়ের মাত্র ৯১ মিটার পার করেই আকাশে ওড়ার কথা ছিল বিমানটির। গতি যখন তীব্র সেই সময় বিমানটির পিছনে ধুলোর মেঘ চোখে পড়ে। টায়ার থেকে তীব্র ঘর্ষণের শব্দও শোনা যায়, যা মোবাইল ফোনে বন্দি করেন এক যাত্রী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানের গতি V1 স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। আকাশে ওড়া হবে, না চাকা মাটিতে থাকবে, সেই সময়ই সিদ্ধান্ত নিতে হয় পাইলটকে। তখনই আচমকা ফের গতি হারায় বিমানটি। পাইলটরা অনুধাবন করেন, রানওয়ে শেষ হতে আর বেশি বাকি নেই। নিরাপদে বিমানটিকে দাঁড় করানোর উপায় নেই আর।

তাই ওই অবস্থাতেই ইঞ্জিনের উপর চাপ বৃদ্ধি করেন পাইলটরা। বিমানটির নাক তোলা হলে মাটি ছাড়ে চাকা। কিন্তু শূন্যে ওঠার পরই বিপদবার্তা আসে যে বিমানের লেজ ধাক্কা খেয়েছে। চাকায় প্রেসার কম। সেই মতো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানানো হয় বিষয়টি। মিউনিখ বিমানবন্দরেই ফেরার সিদ্ধান্ত হয়। তত ক্ষণে মাটি ছেড়ে ৯০০০ ফুট উপরে উঠে গিয়েছে বিমান। ওজন কমাতে ডানার সাহায্য়ে জ্বালানি ফেলতে শুরু করেন পাইলটরা। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওই অবস্থায় মিউনিখের আকাশে ছিল বিমানটি।

মিউনিখ বিমানবন্দরে নামার সময় যাত্রীদের সতর্ক করেন বিমানকর্মীরা। সিটবেল্ট আটকে নিতে বলা হয়। এর পর কম উচ্চতা দিয়ে দু’-দু’বার বিমানবন্দরের চক্কর কাটে বিমানটি, যাতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা বিমানের চাকা দেখতে পান। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর মিউনিখ বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি, দুপুর ৩টে বেজে ৫৭ মিনিটে। ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই বিমানে চার জন পাইলট ছিলেন, যাঁদের সবমিলিয়ে ৬৩ হাজার ৯৩৮ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। Boeing 787 ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ১৯ হাজার ৬৭৫ ঘণ্টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার সময়কার ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ঘটনা নিয়ে তদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, বিমানের আটটি চাকার মধ্যে চারটির টায়ার ফেটে গিয়েছিল, যার মধ্যে তিনটিই ছিল বাঁ দিকের। ডান দিকের একটি চাকার টায়ার ফেটে যায়। উড়ানের সময় বিমানের লেজও ঘষে গিয়েছিল রানওয়েতে। তবে আগুন বা ধোঁয়ার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ২৭১ জন যাত্রী এবং ১৬ জন বিমানকর্মী নিরাপদেই নেমে আসেন বিমান থেকে। কেউ আহত হননি। 

যে Boeing 787-9 বিমানটিতে বিপত্তি দেখা দেয়, সেটি VN-A867 হিসেবে নথিভুক্ত ভিয়েতনামে। বর্তমানে বিমানটিকে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনার পর বিমানবন্দরের পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটে। উত্তরের রানওয়ে থেকে ট্যাক্সিওয়েতে ঢোকার রাস্তা পাওয়া যায়নি। রানওয়েই বন্ধ রাখতে হয় সাময়িক ভাবে। পরে দক্ষিণ দিক থেকে ঘুরিয়ে ট্যাক্সিওয়েতে ঢোকাতে হয়। ওই ঘটনায় জার্মানির তরফেও তদন্ত শুরু হয়েছে।