)
Indian sailors abducted: সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে তুর্কি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রবাহী একটি কার্গো জাহাজ হাইজ্যাক করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। অপহৃত ‘লুতুফ’ জাহাজে ৬ জন ভারতীয় নাবিক-সহ মোট ১০ জন ক্রু রয়েছেন। ঘটনার পর ওই অঞ্চলে বিমান হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছে। অপহৃত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সোমালিয়া উপকূলে তুর্কি অস্ত্রবাহী পণ্যবাহী জাহাজ অপহৃত। ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব ফের নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল। সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে একটি বিদেশি সামরিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামবাহী কার্গো জাহাজ ছিনতাই করল সশস্ত্র জলদস্যুরা। অপহৃত ওই ক্যামেরুনের পতাকাযুক্ত জাহাজটিতে ৬ জন ভারতীয় নাবিক বন্দি রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় টানটান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর রিপোর্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহৃত কার্গো জাহাজটির নাম ‘লুতুফ’। এটি ‘পোলা মুভমেন্ট শিপিং’ নামক এক সংস্থার মালিকানাধীন। জাহাজটি সোমালিয়ার মোগাদিশুতে অবস্থিত তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-এর জন্য ভারী অস্ত্রশস্ত্র, উন্নত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিল।
কোথায় ও কীভাবে হলো হামলা?
সোমবার পুন্টল্যান্ডের মারায়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে ৮ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল আচমকা জাহাজটির ওপর চড়াও হয় এবং সেটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই দস্যু দলটি গত ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামের অপর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অপহরণের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। অপহরণের পর জাহাজটিকে পুন্টল্যান্ডের ডাংগোরোইয়ো জেলার গারমাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
জিম্মি ক্রু সদস্য ও আন্তর্জাতিক নাগরিক
জাহাজটিতে মোট ১০ জন ক্রু এবং নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- ভারতীয় নাবিক: ৬ জন, তুর্কি নাগরিক: ১ জন, জর্জিয়ান নাগরিক: ১ জন, সার্বিয়ান নিরাপত্তা রক্ষী: ২ জন। বর্তমানে এই ৬ জন ভারতীয় নাবিক জলদস্যুদের কবজায় থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ও স্বজনদের মধ্যে গভীর চিন্তা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
নজরদারি, ড্রোন হামলা ও রহস্যময় বিমান হামলা
ঘটনার পরেই সমুদ্র এলাকা ঘিরে ফেলে তুর্কি নৌবাহিনী ও নজরদারি সংস্থাগুলি। দুটি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ অপহৃত কার্গোটিকে অনুসরণ করা শুরু করে এবং আকাশপথে তুর্কি হেলিকপ্টার ও ড্রোন দিয়ে পুরো এলাকা স্ক্যান করা হতে থাকে। এর মধ্যেই ঘটে এক রহস্যময় ঘটনা। মঙ্গলবার স্থানীয় একটি ছোট নৌকায় করে দুজন ব্যক্তি অপহৃত জাহাজে ‘খাত’ সোমালিয়ায় বহুল ব্যবহৃত এক ধরনের মাদক জাতীয় পাতা, পৌঁছে দিয়ে তীরে ফিরে আসছিল। নৌকাটি উপকূলে পৌঁছানোমাত্রই সেখানে একটি বিধ্বংসী আকাশপথে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়। তবে এই বিমান হামলাটি ঠিক কারা চালিয়েছে এবং নিহতরা জলদস্যু দলের সদস্য কি না, তা স্বাধীনভাবে এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে ‘লুতুফ’ জাহাজের ভেতরে থাকা ভারতীয় নাবিকদের শারীরিক অবস্থা কেমন রয়েছে কিংবা সামরিক অস্ত্রসামগ্রী কোন অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সোমালি জলদস্যুদের এই হঠাৎ সক্রিয়তা আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তাকে ফের বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
