)
Imran Khan hospitalised: চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। চরম নিরাপত্তা ও ৮০০ পুলিসের বলয়ে পরীক্ষা শেষে ইমরান খানকে ফের আদিয়ালা জেলেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ। হাসপাতাল থেকে শারীরিক পরীক্ষা শেষে ফের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরান খান। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি নির্দেশের পর শুক্রবার ভোরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রধান ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে কঠোর নিরাপত্তায় রাজধানী ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জেলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বাস্থ্যের অবক্ষয় ও চোখ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বিশেষ মেডিকেল চেক-আপ ও চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্নের পর সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যায়, তাঁকে পুনরায় আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি শাহিদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ গত মঙ্গলবারের শুনানিতে নির্দেশ দেয় যে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। সাধারণ কার্ডিওলজিস্ট, মেডিসিন ও চোখের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও তাঁর বোন ড. উজমা খানের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়। জিল বা হাসপাতালবাসকালীন সপ্তাহে অন্তত একবার পরিবার ও ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি নিশ্চিত করেছে শীর্ষ আদালত।
শারীরিক জটিলতা ও চোখের সমস্যা
২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বন্দি থাকার পর থেকেই ইমরান খানের পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর দ্রুত স্বাস্থ্যহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইমরানের চোখের রেটিনায় গুরুতর সমস্যা—Right Central Retinal Vein Occlusion (CRVO) ধরা পড়ে। পরিবারের দাবি ছিল, তিনি ডান চোখের প্রায় ৮৫% দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অবশ্য জেল কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা ৩৯টি স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে দাবি করেছে, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের টানা চিকিৎসায় তাঁর দৃষ্টিভীতি প্রায় ৭০% থেকে ৮০% স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে এবং তাঁর রক্তচাপ ও ইসিজি (ECG) স্বাভাবিক রয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়
শুক্রবারের এই স্থানান্তরের জন্য ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালকে কার্যত দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। হাসপাতাল ও এর সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে ৮০০ জনের বেশি সশস্ত্র পুলিস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইসলামাবাদের আইজিপি সৈয়দ আলী নাসির রিজভি স্বয়ং হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পুরো নিরাপত্তা বলয় খতিয়ে দেখেন। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিটিআই সমর্থকেরা হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়ে ফুল ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
বর্তমান আইনি লড়াই ও রাজনীতির প্রেক্ষাপট
২০২২ সালে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, তোশাখানা উপহার কেলেঙ্কারি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি প্রকাশের মামলা-সহ শতাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়। আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতির অভিযোগে ১৪ বছরের সাজাসহ বিভিন্ন মামলায় বন্দি রয়েছেন তিনি।
পিটিআই নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিকভাবে ইমরান খানকে চুপ করাতেই এই সব ভুয়া মামলা সাজানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পূর্বঘোষিত লং মার্চ আন্দোলনের সিদ্ধান্তে এখনও অনড় রয়েছে দলটি।
(Feed Source: zeenews.com)
