)
Kangana Ranaut on Sarmila Tagore: কঙ্গনা লেখেন, ‘যেকোনও কবিতা বা গানে শব্দগুলি রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একজন কবি বা শিল্পী তাঁর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরির জন্য নানারকম কল্পনা ও তুলনা টেনে আনেন। ‘বন্দে মাতরম’ হল স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের রেশ এবার আছড়ে পড়ল বিনোদন জগতেও। জাতীয় স্তোত্রর কতটা গাওয়া উচিত্ তা নিয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের। শর্মিলাকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পের রূপক ভাবার্থকে সংকীর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা একেবারেই অনুচিত।
সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক তরজার আবহে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর তাঁর নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা জানান, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া যুক্তিযুক্ত। তাঁর কথায়, ‘ভারতে এমন বহু মানুষ আছেন যাঁরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী, বহু দেব-দেবীতে নয়। ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী স্তবকগুলিতে দেবী দুর্গা বা কালীর উল্লেখ রয়েছে। যাঁরা একেশ্বরবাদী, তাঁদের পক্ষে ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’ বলা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তাই সব ধর্মের মানুষকে যদি একসঙ্গে নিয়ে চলতে হয়, তবে প্রথম দুটি স্তবক পাঠ করাই সর্বোত্তম।’
কঙ্গনা রানাউতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শর্মিলা ঠাকুরের এই মন্তব্যের একটি ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে দীর্ঘ বার্তা দেন কঙ্গনা রানাউত। শর্মিলা ঠাকুরের খোলামেলা মতামতের প্রশংসা করলেও একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর এমন ভাবনা দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন বলে জানান।
কঙ্গনা লেখেন, ‘যেকোনও কবিতা বা গানে শব্দগুলি রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একজন কবি বা শিল্পী তাঁর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরির জন্য নানারকম কল্পনা ও তুলনা টেনে আনেন। ‘বন্দে মাতরম’ হল স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এত বড় একটি শিল্পকর্মকে নিছক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নামিয়ে আনা কতটা সমীচীন?’
স্বামী বিবেকানন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে কঙ্গনা আরও উল্লেখ করেন, ‘বিবেকানন্দ বলেছিলেন, তাঁর এমন যুবসমাজ প্রয়োজন যাদের পেশি হবে লোহার মতো এবং স্নায়ু হবে ইস্পাতের। তিনি কোনও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছিলেন না, তিনি মানুষের ভেতরকার শক্তিকে জাগিয়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন। ডাক্তাররাও মানুষের জীবনীশক্তিকে ‘শক্তি’ বলে অভিহিত করেন। দয়া করে এই হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুন এবং সবাইকে আপন করে গ্রহণ করুন।’
ব্যক্তিগত স্নেহ ও শ্রদ্ধা বজায়
কড়া যুক্তি তুলে ধরলেও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন কঙ্গনা। বার্তার শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাকে অত্যন্ত ভালোবাসি এবং আপনি যেভাবে সবসময় আমাকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন, সেটা আমি এখনো সানন্দে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
উল্লেখ্য, ১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এবং তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হয়ে উঠেছিল। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (সিডব্লিউসি) তাদের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলীয় কর্মসূচিতে শুধু প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার কথা জানানোর পর থেকেই এই জাতীয় স্তোত্রটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
