)
Maharashtra Teen jumps from hill: দুপুর ১টা নাগাদ কুনালের বাবা মুরলীধর পাহাড়ের উপরে ওঠেন এবং ছেলেকে শান্ত করে সরিয়ে আনার জন্য আরও কাছে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে কুনাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মহারাষ্ট্রের জালতা ফাটা (দেবলাই এলাকা) অঞ্চলে এক মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি। নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের সঙ্গে অশান্তি হওয়ায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ পাহাড়ি খাঁদে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর ছেলেটি ঝাঁপ দিলে, চোখের সামনে ছেলেকে খাদে পড়ে যেতে দেখে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে যান বাবা, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনিও নিচে পড়ে যান। চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানকে অতল খাদে তলিয়ে যেতে দেখে চরম মানসিক আঘাত ও আতঙ্কে খাদে ঝাঁপ দেন মা-ও। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যেরই ভয়ংকর মৃত্যু হয়েছে।বাবা এবং চোখের সামনে তা দেখে মা–তিনজনেই পাহাড় থেকে নিচে পড়ে মারা যান।
মৃতদের পরিচয়: মৃত ব্যক্তিরা হলেন মুরলীধর চাঁদগুড়ে (৪৮), তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা এবং তাঁদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে কুনাল।
অশান্তির কারণ: নতুন একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে কুনালের কথা কাটাকাটি হয়। ক্ষোভে সে সকাল প্রায় ১০টার সময় স্থানীয় একটি পাহাড়ের বিপজ্জনক কিনারায় উঠে যায় এবং আত্মহত্যার হুমকি দেয়।
৩ ঘণ্টার নাটকীয় পরিস্থিতি: কুনালের মা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ভবিষ্যৎ ও বাবা-মায়ের কথা ভেবে ফিরে আসতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সে কিছুতেই নিচে নামতে রাজি হয়নি।
উদ্ধারচেষ্টা ব্যর্থ: খবর পেয়ে পুলিস ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। দমকল কর্মীরা নিচে সুরক্ষা জাল (Safety Net) পাতার চেষ্টা করলেও কুনাল ক্রমাগত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মর্মান্তিক সমাপ্তি:
দুপুর ১টা নাগাদ কুনালের বাবা মুরলীধর পাহাড়ের উপরে ওঠেন এবং ছেলেকে শান্ত করে সরিয়ে আনার জন্য আরও কাছে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে কুনাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেয়। মুরলীধর আপ্রাণ চেষ্টা করে ছেলেকে হাত ধরে টানার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই পাহাড়ের নিচে আছড়ে পড়েন।
মায়ের মর্মান্তিক পদক্ষেপ
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে চোখের সামনে সন্তান ও স্বামীকে চোখের নিমেষে মৃত্যুর মুখে তলিয়ে যেতে দেখে বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়েন মহিলা। প্রত্যক্ষদর্শীরা কিছু বোঝার আগেই এবং তাঁদের থামানোর সুযোগ না দিয়েই চরম শোক ও হতাশায় তিনিও স্বামী ও সন্তানের পেছনে গভীর খাদে ঝাঁপ দেন। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দৃশ্যে উপস্থিত অন্যান্য পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পুলিস তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পাঠিয়েছে।
ঘটনার পরপরই পর্যটকদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় ট্রেকার্স গ্রুপ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। পাহাড়ি এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম, খাড়া এবং পিচ্ছিল হওয়ায় উদ্ধার অভিযান চালাতে চরম বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে। দড়ি ও বিশেষ পর্বতারোহণ সরঞ্জামের সাহায্যে বহু ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে গভীর খাদ থেকে একে একে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
সতর্কবার্তা ও পর্যটনস্থলে নিরাপত্তা
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিস ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের পাহাড়ি এলাকা, বিপজ্জনক খাদের কিনারা এবং জলপ্রপাতের মতো স্থানে আরও বেশি সতর্ক ও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি রাস্তা ও পাথর পিচ্ছিল থাকায় কোনো অবস্থাতেই রেলিং বা সুরক্ষা বেষ্টনী পেরিয়ে সেলফি তোলা বা বিপজ্জনক জায়গায় না যাওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করছে প্রশাসন।
(Feed Source: zeenews.com)
