)
Imran Khan Big Update: সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ভেতরে তীব্র অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক হামেদ মীর বিষয়টিকে একটি সম্ভাব্য ‘গোপন সমঝোতা’ (Secret Deal) হিসেবেই বিশ্লেষণ করেছেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার ইমরান খানকে ভয়ংকর অসুস্থতার কারণে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানোর সুপ্রিম নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা ৭৩ বছর বয়সি এই নেতার শারীরিক অসুস্থতার কারণে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার রিভিউ পিটিশন দায়ের করলেও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি তা খারিজ করে ফেরত পাঠায়। সরকারের এই আইনি ব্যর্থতার পর ইমরান খানের ভবিষ্যৎ মুক্তি এবং রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আসছে।
ইমরান খানের চোখের রেটিনাল ভেইন অক্লুশন, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের জটিলতার কারণে পিটিআই ও পরিবারের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি শাহিদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ইসলামাবাদের ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে’ স্থানান্তর করতে হবে এবং তিনি সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকবেন।
সরকারি আপত্তি খারিজ
শাহবাজ সরকার জেল কোড ও নিয়মের দোহাই দিয়ে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সরকারের আবেদন ফেরত দেয়।
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা সপ্তাহে একবার তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন এবং বিদেশে থাকা সন্তানদের সঙ্গে তিনি সপ্তাহে দু’বার ফোনে কথা বলতে পারবেন।
‘গোপন সমঝোতা’? শরিফ পরিবারের আতঙ্ক
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ভেতরে তীব্র অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক হামেদ মীর বিষয়টিকে একটি সম্ভাব্য ‘গোপন সমঝোতা’ (Secret Deal) হিসেবেই বিশ্লেষণ করেছেন।
পাকিস্তানি রাজনীতির ইতিহাস টেনে হামেদ মীর স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৮ সালে ইমরান খানের শাসনকালে নওয়াজ শরিফ একাধিক দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে চিকিৎসার নামে অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে নওয়াজ লন্ডনে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ সময় সেখানে নির্বাসনে থাকেন।
শাসক দল পিএমএল-এন (PML-N) সন্দেহ করছে, নওয়াজ শরিফের মতো ইমরান খানও হয়তো ব্যাক-চ্যানেল আলোচনার মাধ্যমে মুক্তির পথ সুগম করছেন। দলের সেনেটর নাসির ভাটও দাবি করেছেন যে শরিফ পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং ইমরান খানকে পর্যায়ক্রমে গৃহবন্দি বা নিজ বাড়িতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
শাহবাজ সরকারের বহুমুখী সংকট
বর্তমান সময়ে ইমরান খানের প্রতি এই নমনীয়তা শাহবাজ সরকারের জন্য সংকট বাড়িয়ে তুলেছে:
জোটের ফাটল: প্রধান শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন তাদের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গেছে।
অভ্যন্তরীণ চাপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
জনবিক্ষোভ ও পিটিআই-এর ডাক: তরুণ সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধী অসন্তোষ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা সরকারকে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা
পাকিস্তানি রাজনীতিতে আদালতের মাধ্যমে পাওয়া এমন স্বস্তি প্রায়শই রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করে। নওয়াজ শরিফ যেভাবে লন্ডন থেকে ফিরে পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন, ইমরান খানের ক্ষেত্রেও তেমন প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপ কেবল তাঁর চিকিৎসার পথই প্রশস্ত করেনি, বরং তাঁর সম্ভাব্য মুক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকার পথকেও নতুন করে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
