)
Soham Chakraborty: সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে বসিয়ে রাখার পর বকেয়া ৭৯০০০ টাকা চাইলে টাকা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। এরপরই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কাঠমিস্ত্রি। শুধু তাই নয়, তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর বেহালা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজ কাপুর শর্মা।
সন্দীপ প্রামাণিক: কাঠমিস্ত্রিকে মারধর, অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বেহালা থানায় অভিযোগ। অভিনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সোহম চক্রবর্তী এবার এক কাঠমিস্ত্রিকে মারধর, হুমকি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজ কাপুর শর্মা নামে এক কাঠমিস্ত্রি।
অভিযোগকারী রাজ কাপুর শর্মার দাবি, সোহম চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে কাঠের ফার্নিচারের কাজের কন্ট্র্যাক্ট পেয়েছিলেন তিনি। কাজের জন্য তাঁকে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। প্রথমে সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে কেবল একটি ‘ওয়াল কেবিনেট’ বা দেওয়াল-সংলগ্ন আলমারি তৈরির কথা হয়েছিল। এর জন্য ৫৫,০০০ টাকা ঠিক হয়। সেই কেবিনেটের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন তিনি। কিন্তু এরপর সোহম চক্রবর্তী তাঁকে দিয়ে আরও অনেক নতুন কাজ করাতে শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল ঘরের একাধিক ওয়ার্ডরোব এবং প্রায় ৮ থেকে ১০টি নতুন দরজা তৈরির কাজ।
নতুন কাজ যুক্ত হওয়ায় মোট বিলের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৭৯,৮০০ টাকায়। মিস্ত্রি রাজ কাপুর জানান, কাজের টাকা চাইলে তাঁকে বারবার ঘোরানো হত। এরপর কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেলে বাকি পারিশ্রমিক চাইতে শুরু করেন তিনি। ‘আজ দেব, কাল দেব’ করে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁর পাওনা টাকা আটকে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগ, গত সোমবার সোহম চক্রবর্তীর বাড়ির এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। এরপর তিনি অভিনেতার বাড়িতে যান। সোমবার বিকেলে যখন তিনি আবার ফ্ল্যাটে যান, তখন সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। রাজ কাপুর অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘স্যার, দেখুন আমি তো গরিব মানুষ। কাঠের মেটেরিয়াল (কাঁচামাল) কেনার পয়সা না দিলে আমি কাজ করব কীভাবে?’
অভিযোগ, এ কথা শুনতেই মেজাজ হারান অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। রাজকাপুর শর্মার কথায়, ‘এ কথা বলতেই সোহমদা আমাকে প্রথম মারল। আমাকে ঠেলে লিফটের গায়ে চেপে ধরে ঘুসি মারতে চেয়েছিল। আমি হাত দিয়ে মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করি, তাও আমার মুখ কেটে যায়।’ মারধরের পর সোহম চক্রবর্তীর নিরাপত্তা রক্ষী রাজকাপুরকে নীচে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর থেকে জোর করে লিখিত নেওয়া হয় যে, তিনি কতদিনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করবেন। রাজকাপুর বলেন, ‘মেটেরিয়াল কিনে দিলে আমি ৫ দিনে কাজ শেষ করে দেব, তার বেশি পারব না।’ এরপর তাঁর হাতের মোবাইল ফোনটি বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় এবং বলা হয়, কাজ পুরোপুরি শেষ হলে তবেই ফোন ফেরত দেওয়া হবে।
রাজকাপুর শর্মার আরও অভিযোগ, তাঁকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয় এবং আবাসন থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরে অভিনেতার নিরাপত্তা রক্ষী তাঁকে ফোন করে বলে যে, তিনি যে কাগজে সই করেছেন, সেখানে যেখানে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর নাম লেখা আছে, তা মুছে নিরাপত্তা রক্ষীর নাম লিখে নতুন করে সই করতে হবে।
রাজকাপুর এতে রাজি না হলে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘তোকে বাড়ি থেকে তুলে এনে মারব।’ এই ভয়ে ও অনিরাপত্তায় ভুগে তিনি সোজা থানায় গিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমার সাথে এমন হয়েছে, কাল অন্য কোন গরিব মানুষের সঙ্গে হবে। তাই আমি পুলিসের সাহায্য চাইছি।’ পুলিস পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। এর আগেও একটি রেস্তোরাঁয় মারধরের ঘটনায় সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এবার ফের মারধরের অভিযোগ ওঠায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
