)
Anaya Bangar: নগ্ন ছবি পাঠানো সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিছানা-বাসনায় তিনি! ভারতীয় কোচের লিঙ্গবদল করা কন্যা ফিরছেন ক্রিকেটে। অস্ট্রেলিয়া করে দিল রাস্তা
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনয়া বাঙ্গার জানিয়েছেন যে, আগামী বছর মার্চ মাস থেকেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় এলিট পর্যায়ের নারী ক্রিকেট খেলার যোগ্য। এর ফলে উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সম্ভাব্য পথ খুলে গিয়ছে অনয়ার। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া কিন্তু পুরুষ হয়েই জন্মেছিলেন। তাঁর নাম ছিল নাম ছিল আরিয়ান। তবে ২০২১ সালে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি (লিঙ্গ নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচার) সম্পন্ন করে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার পর খেলা থেকে সরে দাঁড়ানো অনয়ার জন্য প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার এই ঘটনাটি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। মুম্বইতে এর আগে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলছেন অনয়া। সরফরাজ খান, মুশির খান ও যশস্বী জয়সওয়ালরা ছিলেন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ।
ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা তাঁর কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আবেগি। কারণ তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে পুরুষ থেকে নারী হওয়ার পর তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে। অনয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘২০২৭ সালের মার্চ মাস থেকে আমি অস্ট্রেলিয়ায় উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমার কাছে বিষয়টি অত্যন্ত আবেগি। কারণ একটা সময় আমি সত্যিই বিশ্বাস করতাম যে ক্রিকেটকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট আমার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার পর খেলা থেকে সরে দাঁড়ানোটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। তাই এটি কেবল কোনও নারী লিগে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয় নয় বরং এটি সেই খেলায় ফিরে আসার সম্ভাবনার প্রতীক, যাকে আমি গভীর ভাবে ভালোবাসি।’
আপাতত লক্ষ্য অলরাউন্ডার হওয়া
বিগ ব্যাশ লিগে সুযোগ পাওয়ার আগে অনয়ার তাৎক্ষণিক লক্ষ্যই হলো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আসা এবং নিজেকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে নতুন করে গড়ে তোলা। অনয়া বলছেন, ‘বিদেশি খেলোয়াড়দের চুক্তি ও ড্রাফট পদ্ধতি রয়েছে। যেখানে আইপিএল বা ডব্লিউপিএলের মতোই ক্লাবগুলি উপলব্ধ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে তাদের পছন্দমতো খেলোয়াড় বেছে নেয়। তাই শেষ পর্যন্ত কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এটা বোঝাতেই হবে যে আমি তাদের দলে অবদান রাখতে পারি। আমার ক্ষেত্রে যার মানে অস্ট্রেলিয়ান লিগগুলির মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা, নিজের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ও ফিটনেসের উপর কাজ করা, নিয়মিত অনুশীলন করা এবং সেই পর্যায়ে ভালো পারফর্ম করার সক্ষমতা প্রমাণ করা।’
অস্ট্রেলিয়াই করে দিল অয়নাকে রাস্তা
মহিলাদের ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের যে ধারা অস্ট্রেলিয়ায় অব্যাহত রয়েছে, তার মধ্যেই অনয়ার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উইমেন অ্যান্ড গার্লস অ্যাকশন প্ল্যানের লক্ষ্যই হলো বিগ ব্যাশ লিগ-সহ সামগ্রিক ভাবে এই খেলায় অংশগ্রহণ, বিনিয়োগ এবং সুযোগের পরিধি বাড়ানো। আপাতত অনয়ার লক্ষ্য স্পষ্ট- প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আসা, নিজের ছন্দ ও ফিটনেস পুনরুদ্ধার করা এবং ২০২৭ সাল থেকে বিগ ব্যাশ লিগে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে নিজেকে যোগ্য করে তোলা। যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে হয়তো সুযোগের দরজা খুলে গিয়েছে অনয়া। তবে পরবর্তী ধাপটি হল মাঠে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার ও জেন্ডার-ডাইভার্স (লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময়) খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই একটি নীতি অনুসরণ করে আসছে। তাদের নির্দেশিকায় কমিউনিটি ক্রিকেট এবং এলিট ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। যেখানে ডব্লিউবিবিএলকে স্পষ্ট ভাবে একটি এলিট বা শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
