)
H1N1 Virus Big Update: তবে শুধু দিল্লিতেই ৩০০০ বেশি আক্রান্ত হওয়ায় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে সকলকে মাস্ক পরার আর নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও H1N1 (সোয়াইন ফ্লু) সংক্রমণ মারাত্মক বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে দিল্লি সরকার ও স্বাস্থ্য দফতর। শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে দিল্লির সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা (Advisory) প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন কেন স্কুল ও কর্মক্ষেত্রগুলো সংক্রামক ভাইরাসের সবচেয়ে বড় ‘হটস্পট’ হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
উপসর্গ থাকলে স্কুলে না আসা: জ্বর, কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো ফ্লু-এর প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের স্কুলে না এসে বাড়িতে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক নজরদারি ও থার্মাল স্ক্রিনিং: প্রতিদিন স্কুলে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং কোনও শিশুর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে অবিলম্বে আলাদা (আইসোলেশন) করে অভিভাবকদের খবর দেওয়া।
হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: শ্রেণিকক্ষে সাবান-জল দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকার অভ্যাস তৈরি করা।
পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ: শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালার হাতল, ডেস্ক, বেঞ্চ ও সাধারণ ব্যবহারের জায়গাগুলো নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখা।
কেন স্কুল ও অফিস ফ্লু ছড়ানোর প্রধান কেন্দ্র (Hotspots)?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রগুলোতে নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে:
১. বদ্ধ পরিবেশ ও অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচল: এসি বা সেন্ট্রালাইজড ভেন্টিলেশনের কারণে ঘরের মধ্যে বাতাস চলাচল সীমিত থাকে। ফলে সংক্রামিত ব্যক্তির কাশির ড্রপলেট দীর্ঘক্ষণ বাতাসে ভেসে থাকে।
২. ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ (Close Proximity): শ্রেণিকক্ষ বা অফিসে বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাছাকাছি বসে কাজ করে, যা বায়ুবাহিত ভাইরাসের এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যাওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দেয়।
৩. উচ্চ স্পর্শযুক্ত বস্তু (High-Touch Surfaces): ডেস্ক, কম্পিউটার কীবোর্ড, লিফটের বোতাম, দরজার নব বা ক্যাফেটেরিয়ার টেবিলের মতো জায়গায় ভাইরাস লেগে থাকে এবং হাত দেওয়ার পর মুখে বা নাকে হাত দিলে সংক্রমণ ঘটে।
৪. উপসর্গ গোপন রাখা: ছুটি কম থাকা বা পরীক্ষার চাপের কারণে অনেকে মৃদু উপসর্গ থাকলেও স্কুল বা অফিসে উপস্থিত হন, যার ফলে অজান্তেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
সবার জন্য কি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক?
আইসিএমআর (ICMR)-এর বক্তব্য: ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বা রুটিন নয়।
কারণ: এইচ১এন১ ভাইরাস মূলত ড্রপলেটের (হাঁচি-কাশির তরল কণা) মাধ্যমে ছড়ায়, যা সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ১ থেকে ২ মিটারের বেশি দূরে যেতে পারে না। তাই পর্যাপ্ত শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখলেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
কাদের জন্য মাস্ক পরা আবশ্যক?
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি:
আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি: যাঁদের জ্বর, সর্দি, কাশি বা ফ্লু-এর উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানো আটকাতে অবশ্যই মাস্ক পরা উচিত।
তবে শুধু দিল্লিতেই ৩০০০ বেশি আক্রান্ত হওয়ায় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে সকলকে মাস্ক পরার আর নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ ও বদ্ধ পরিবেশ: ভিড়যুক্ত স্থান, গণপরিবহন বা যেখানে সঠিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই (poorly ventilated indoor spaces), সেখানে সুস্থ ব্যক্তিরাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাস্ক পরতে পারেন।
রোগীর সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি: হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী অথবা বাড়িতে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যা করছেন এমন ব্যক্তিদের মাস্ক পরা জরুরি।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: প্রবীণ নাগরিক, ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যাঁদের ফুসফুস, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা রয়েছে।
চিকিৎসকদের দেওয়া মূল প্রতিরোধমূলক পরামর্শ (Prevention Tips)
হাত ধোয়ার অভ্যাস: সাবান-জল দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।
হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার: হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ও নাক টিস্যু বা কনুই দিয়ে ঢাকা এবং ব্যবহৃত টিস্যু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।
অসুস্থ অবস্থায় বিশ্রাম: ফ্লু-এর উপসর্গ দেখা দিলে বাইরে না গিয়ে ২-৩ দিন বাড়িতেই আইসোলেশনে বিশ্রাম নেওয়া।
হাত মেলানো এড়ানো: সরাসরি শারীরিক স্পর্শ বা হাত মেলানো এড়িয়ে চলা, কারণ অপরিচ্ছন্ন হাত থেকে মুখে/নাকে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।
স্বেচ্ছায় ওষুধ না খাওয়া: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ না খাওয়া।
বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এইচ১এন১ একটি মৌসুমি ফ্লু হলেও বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, শিশু এবং আগে থেকেই ফুসফুস বা হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার গ্রহণ এবং পুষ্টিকর আহার বজায় রাখা জরুরি।
জনবহুল জায়গায় মাস্ক ব্যবহার সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা কড়া ওষুধ খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
