)
যশের নতুন ছবি টক্সিক মুক্তির পর নেগেটিভ রিভিউ ঘিরে তৈরি হয়েছে আইনি বিতর্ক। ইউটিউবার সূরজ কুমার তাঁর রিভিউ নিয়ে আইনি নোটিস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর আগে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত ছবিটি নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশ ও ছড়ানোর উপর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে আদালতের নির্দেশ সরাসরি ছবির সমালোচনা নিষিদ্ধ করেনি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যশের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘Toxic: A Fairy Tale for Grown-Ups’ মুক্তির পর এবার ছবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক। ছবির সমালোচনা করে রিভিউ দেওয়ার পর ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সারদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউটিউবার সুরজ কুমার এবং তামিল ইউটিউবার প্রশান্ত রঙ্গস্বামী। এরই মধ্যে বেঙ্গালুরুর একটি আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ সামনে এসেছে। আদালত ছবিটি নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশ বা ছড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্দেশ সরাসরি কোনও সাধারণ নেতিবাচক রিভিউ বা সমালোচনাকে নিষিদ্ধ করেনি।
যশ অভিনীত ‘Toxic’ ২৬ অগাস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ছবির নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ছবির নির্মাতাদের তরফে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ে আইনি পদক্ষেপের খবর সামনে আসে। বৃহস্পতিবার ইউটিউবার সুরজ কুমার সমাজমাধ্যমে একটি আইনি নোটিসের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ‘Toxic’ নিয়ে করা তাঁর রিভিউয়ের জন্যই তাঁকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসটি পাঠিয়েছে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক Aiplex Software Private Limited। সংস্থাটি ‘Toxic’-এর প্রযোজক ও কপিরাইট মালিক KVN-Monster Mind Creations LLP-এর হয়ে কাজ করছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুরজের রিভিউ এখনও অনলাইনে
সুরজের যে রিভিউ নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেটি তিনি ছবিটি মুক্তির দিন অর্থাৎ বুধবার পোস্ট করেছিলেন। রিপোর্ট প্রকাশের সময় পর্যন্ত সেই ভিডিয়ো অনলাইনেই ছিল। আইনি নোটিস পাওয়ার কথা জানিয়ে সুরজ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘Thank You Team Toxic For the Legal Notice on My Review.’ তিনি ওই পোস্টে রিভিউ সরিয়ে নেওয়ার কথা জানাননি।

আরও এক ইউটিউবারকে নোটিস
শুধু সুরজ নন, তামিল ইউটিউবার প্রশান্ত রঙ্গস্বামীও আইনি নোটিস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে জানান, ‘Toxic’-এর রিভিউ করার পর তাঁকেও যশ ও KVN Productions-এর তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর আগে একজন X ইনফ্লুয়েন্সারও ছবির নেতিবাচক রিভিউ পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইনি নোটিস পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ, ছবিটি মুক্তির পর একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ক্ষেত্রে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপের অভিযোগ সামনে এসেছে।
নোটিসে কী বলা হয়েছে?
সুরজকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে, Aiplex-কে ‘Toxic’ সংক্রান্ত অনলাইন কনটেন্টের বিষয়ে প্রযোজকদের হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে– আইনি নোটিস ও টেকডাউন নোটিস পাঠানো, অনলাইন কনটেন্ট সরানোর দাবি জানানো, সার্চ ইঞ্জিন থেকে কোনও কনটেন্টের লিঙ্ক সরানোর আবেদন করা, কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ করা, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, হোস্টিং সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পদক্ষেপ চাওয়া।
সুরজের প্রকাশ করা চিঠি অনুযায়ী, Aiplex-কে এই বিষয়ে কাজ করার অনুমতি ১৩ জুলাই থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইনি নোটিস পেলেই আদালত তাঁর রিভিউকে মানহানিকর বলে দিয়েছে—এমন নয়। নোটিসটি মূলত ছবির প্রযোজকদের অনুমোদিত প্রতিনিধির পাঠানো আইনি যোগাযোগ। এটি কোনও আদালতের রায় নয়।
আদালত কী নির্দেশ দিয়েছিল?
এই আইনি নোটিসের ঘটনা সামনে আসার কয়েক দিন আগেই বেঙ্গালুরুর একটি আদালতে ‘Toxic’ সংক্রান্ত মামলা হয়। ২২ অগাস্ট বেঙ্গালুরুর Additional City Civil and Sessions Court একটি ex-parte temporary injunction বা একতরফা অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেখানে ছবিটি নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এই আদালতের নির্দেশের অর্থ এমন নয় যে ছবির কোনও নেতিবাচক সমালোচনা করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ মূলত মিথ্যা, মানহানিকর বা আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ সাধারণ সমালোচনা, ব্যক্তিগত মতামত এবং মিথ্যা বা মানহানিকর তথ্য—এই তিনটিকে এক করে দেখা যায় না।
‘Toxic’ নিয়ে এত বিতর্ক কেন?
‘Toxic’ মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে ছবিটির নেতিবাচক রিভিউ, মিম এবং সমালোচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই নির্মাতাদের আইনি পদক্ষেপের খবর সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—একটি ছবির নেতিবাচক রিভিউ এবং কোনও ছবিকে নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর মধ্যে সীমারেখা কোথায়? এই প্রশ্নই এখন ‘Toxic’ বিতর্কের অন্যতম বড় বিষয়।
(Feed Source: zeenews.com)
