Actress Trouble Marriage: ‘বাড়িতে বরের হাতে মার খেতাম আর বাইরে কাজের জন্য পুরস্কার পেতাম’, টেলিভিশন অভিনেত্রীর ভয়ঙ্কর জীবন

Actress Trouble Marriage: ‘বাড়িতে বরের হাতে মার খেতাম আর বাইরে কাজের জন্য পুরস্কার পেতাম’, টেলিভিশন অভিনেত্রীর ভয়ঙ্কর জীবন

অভিনেত্রী বলেন, “লোকেরা প্রায়ই আমাকে বলে যে আমি আমার জীবনের ১৩টি বছর নষ্ট করেছি। কিন্তু আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমি সেই সম্পর্কটাকে আমার সর্বস্ব দিয়েছি, যাতে পরে চেষ্টা না করার জন্য আমাকে কখনো অভিযোগ করতে না হয়।”

মুম্বই: টিভি অভিনেত্রী তাঁর ভক্তদের কাছে কখনও নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন করেননি। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রথম বিয়ের বেদনাদায়ক সময় এবং কীভাবে তিনি গার্হস্থ্য হিংসতার শিকার হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। তিনি প্রকাশ করেছেন যে, বিয়ের বিধিনিষেধ এবং মানসিক চাপ তাঁর জন্য অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু একদিন, তাঁর মেয়ে ঝগড়া দেখে ফেললে, সেই মুহূর্তে তিনি সম্পর্কটি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী তাঁর প্রথম বিয়ের কথা উল্লেক করেছেন। তিনি জানান যে, বিয়ের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। বিয়ের আগে তারা তিন বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। তবে, তাদের সম্পর্ক কখনোই সহজ ছিল না। বিয়ের আগেও তাদের মধ্যে দৈনন্দিন মতবিরোধ এবং তর্কাতর্কি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি ব্যাখ্যা করল, “শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল না। বিয়ের আগেও আমাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে আমাদের থেমে গিয়ে এটা বোঝা উচিত ছিল যে আমরা একে অপরের জন্য উপযুক্ত নই। কিন্তু প্রথম প্রেম এমনই হয়, তখন সবকিছু বলে মনে হয়। আমার বাবা-মাও আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এই সম্পর্কটা ঠিক নয় এবং আমরা একে অপরের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী নই, কিন্তু আমি তখন কারও কথাই শুনিনি।” দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, তিনি সম্পর্কটি বাঁচানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করতে চেয়েছিলেন, যাতে অবশেষে যখন তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তার কোনো আফসোস না থাকে।

এই অভিনেত্রী আর কেউ নন কাম্যা পঞ্জাবি৷ কাম্যা তাঁর প্রথম বিয়েতে গার্হস্থ্য হিংসার বিষয়েও নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন। কাম্যা বললেন, “আমি গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছি। একটা সময় ছিল যখন বাইরে যাওয়ার আগে মুখের ক্ষতচিহ্নগুলো ঢাকতে আমাকে মেকআপ করতে হতো। আমার এখনও মনে আছে, একবার পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় নিজের ওপর আমার খুব লজ্জা লেগেছিল। আমি ভাবছিলাম, আমি কে আর আমি কী করছি? বাড়িতে মার খাচ্ছি, আর তারপর বাইরে গিয়ে পুরস্কার নিচ্ছি। কেন? আমি কী ধরনের জীবন কাটাচ্ছিলাম আর কাকে কী প্রমাণ করার চেষ্টা করছিলাম?”

সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কাম্যা বলেন যে, তিনি প্রায়ই নিজের ঘরে নিজেকে আটকে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন, কখনও কখনও পুরো রাত বাথরুমে কাটাতেন। কখনও মুখের দাগগুলো লুকানোর জন্য তিনি ভারী মেকআপ করে সেটে যেতেন। সেই সময় তার চারপাশের মানুষ জানত না যে তিনি কী যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি প্রায়ই তার ভ্যানিটি ভ্যানে কান্নায় ভেঙে পড়তেন, কিন্তু যেইমাত্র তিনি বেরিয়ে আসতেন, তিনি এমন ভান করতেন যেন সবকিছু স্বাভাবিক।

উল্লেখ্য যে, কাম্যা পাঞ্জাবি এর আগে ব্যবসায়ী বান্টি নেগির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, যার সঙ্গে তার আরা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে, প্রায় ১৩ বছর স্থায়ী একটি সম্পর্কের পর এই দম্পতি চিরতরে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর, ২০২০ সালে কাম্যার জীবনে আবার ভালোবাসা ফিরে আসে এবং তিনি শালভ ডাংকে বিয়ে করে এক নতুন জীবন শুরু করেন।

(Feed Source: news18.com)