)
কেন ৭ তারকাকে একসঙ্গে ছাঁটাই করা হল? প্রধান নির্বাচকের ভয়াল তোপে খোদ অধিনায়ক-কোচ! বোর্ডের তুমুল বিবাদ প্রকাশ্যে, চলে এল ভিডিয়ো
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে এসেছে পাকিস্তান। ১ ম্য়াচ বাকি থাকতেই সিরিজে ২-০ এগিয়ে রয়েছেন জো রুটরা। লিডসে ইনিংস ও ১০৩ রানে বাবর আজমরা হেরেছেন। এরপর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে রুটরা জেতেন ১৯৪ রানে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু। এহেন হতশ্রী পাকিস্তানের পারফরম্য়ান্সে বিতর্কের ঝড় উঠে গিয়েছে সেই দেশে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দল থেকে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। যে সিদ্ধান্তের জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান আকিব জাভেদ তীব্র সমালোচিত হচ্ছেন। আকিব জাভেদেই ছিলেন এই সিদ্ধান্তের মূলে। তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে ইংল্যান্ডে ৭ জন নতুন খেলোয়াড়কে পাঠানো হয়েছে এবং সরফরাজ আহমেদের জায়গায় হঠাৎ করেই সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসনের উপর টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের জিও টিভির সঙ্গে কথা বলার সময়ে জাভেদ জানালেন যে, ঠিক কী কারণে বোর্ডকে হঠাৎ করেই এত বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।
ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের শোচনীয় পারফরম্যান্সের কারণগুলি তুলে ধরার সময় জাভেদ দলের টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম এবং হেড কোচকে ধুয়ে দিয়েছেন। জাভেদের অভিযোগ, মাঠের মধ্যে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বোর্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। জাভেদ বলেন, ‘তাদের ম্যানেজমেন্টের হাতে একজন পেস-অলরাউন্ডার, একজন দ্বিতীয় উইকেটকিপার এবং উবেইদ শাহের মতো একজন ফাস্ট বোলার থাকার পরেও সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমি অধিনায়ক বাবর আজম ও কোচের সঙ্গে কথা বলেই উবাইদকে দলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কারণ দলের অন্য বোলাররা—যেমন মহম্মদ আব্বাস, মহম্মদ আলি ও খুররম শাহজাদ—সবাই প্রায় একই গতির বোলার। আমাদের শীর্ষ ৭ ব্যাটারের মধ্যে কোনও অলরাউন্ডার নেই। দলে একজন অলরাউন্ডার রাখা উচিত ছিল। তবে সবচেয়ে জরুরি হল ওবেইদ শাহকে দলে নেওয়া। যে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে। একজন ফাস্ট বোলার দলের বোলিং আক্রমণের পুরো কাঠামোই বদলে দিতে পারে। ফর্মের বাইরে থাকা সলমান আঘাকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আমি বুঝি, কিন্তু মহম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় গাজি ঘোরিকে খেলানো উচিত ছিল। যখন টিম ম্যানেজমেন্ট কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তখন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমরা ইতিমধ্যেই সিরিজ হেরে গিয়েছি এবং বিশ্ব আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করছে। কারণ আমরা ন্যূনতম লড়াইটুকুও করতে পারছি না।’
মাঠের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ পিসিবির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। জাভেদ অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বোর্ড কর্তারা মাঝেমধ্যে দলের একাদশ নির্বাচনের মতো বিষয়েও হস্তক্ষেপ করেন। যে কাজটি সাধারণত কোচ ও অধিনায়কই করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘যখন কোনও সিদ্ধান্ত দলের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, তখন একাদশে পরিবর্তন এনে দলের ভারসাম্য ঠিক করার জন্য বার্তা পাঠানো হয়।’ ইংল্যান্ডে ৭ জন নতুন খেলোয়াড় পাঠানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জাভেদ বলেন, যেহেতু সিরিজটি আগেই হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে, তাই নতুন খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখতে কোনও ক্ষতি নেই। তিনি আরও বলেন, ‘সিরিজ হেরে যাওয়ার পর যখন আর হারানোর কিছু থাকে না, তখন তরুণ খেলোয়াড়দের সেখানে পাঠানোয় কোনও ক্ষতি নেই। এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখানো যায় যে, পাকিস্তান ক্রিকেটে এখনও প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। পুরনো খেলোয়াড়দের আমরা এই বার্তাই দিচ্ছি যে, গুরুত্বপূর্ণ সফরে নিজেদের খেলার মান উন্নত করতে হবে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে হবে। এবং আমাদের চোখে পড়ার মতো প্রচেষ্টা থাকতে হবে।’ বোঝাই যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেটে চরম ডামাডোল।
(Feed Source: zeenews.com)
