
নেপালের সংসদে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র চিন ও ভারত কারিগরি বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছিল। প্রথম দিন থেকেই তাঁরা ওই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং সেখানে পৌঁছানো সম্ভব কি না তা যাচাই করার জন্য আকাশপথে জরিপ-সহ নানা অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এটা ছিল এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ঘটনাস্থলে কাদা ও পলি এত বেশি ছিল যে, কেবল খননযন্ত্রই নয়, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও দাঁড়ানোর মতো কোনও জায়গা ছিল না।”
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথর ধসের ফলে সৃষ্টি হওয়া হড়পা বান গত ২৬ অগাস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত ভোটকোশি নদী বন্যার জল ভাটির দিকে বয়ে নিয়ে যায়। যার জেরে ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যায় এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় প্রতিদিন বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা আগেই ছাড়িয়েছে হাজার। মঙ্গলবার এই সংখ্যা গিয়ে পৌঁছায় ১০৫০-এ। দেশের আটটি জেলা থেকে দেহ উদ্ধার করে চলেছেন উদ্ধারকারীরা। নেপালের পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলিতে জলের স্তর বেড়ে যাওয়ায় এবং নতুন করে বন্যা সতর্কতার পাশাপাশি থেমে থেমে চলা বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের দাবি, জলবায়ু সঙ্কট তৈরিতে নেপালের ভূমিকা কার্যত নগন্য হলেও , তার ভয়াবহ ফল ভোগে তারাই। গতকাল স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের কূটনৈতিক অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হতে পারে। এতদিন যেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হতো, এখন সেখানে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দাবি করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন , ‘এটি কোনও দাতব্যের বিষয় নয়, এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’ তাঁর দাবি,চিন , আমেরিকা ও ভারতের মতো বড় শিল্পোন্নত দেশ গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করে সবথেকে বেশি। তাই তাদেরও দায় নিতে হবে। এইসব দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হতে পারে। বিষয়টি এবার গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করছে কাঠমাণ্ডু।
