শিক্ষক দিবসে দারুণ ঘোষণা সচিনের, প্রয়াত বাবার নামে শুরু করলেন ফেলোশিপ

শিক্ষক দিবসে দারুণ ঘোষণা সচিনের, প্রয়াত বাবার নামে শুরু করলেন ফেলোশিপ

 

মুম্বই: ক্রিকেটের ভগবান বলে পরিচিত সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। শিক্ষক দিবসে তাঁর বাবাকে স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন সচিন। শিক্ষক দিবসে উপলক্ষে তাঁর বাবা রমেশ তেন্ডুলকরকে নিজের প্রথম মেন্টর এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাবাই প্রথম আমার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা চিনতে পেরেছিলেন। তিনি আমাকে এই খেলায় কেরিয়ার গড়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।’ সচিন জানান, এই উপলক্ষে তিনি তাঁর হেলথকেয়ার পার্টনার, ‘Inga Health Foundation’-এর সঙ্গে মিলে ‘Professor Ramesh Tendulkar Memorial Fellowship’ শুরু করছেন।

সচিন তাঁর X-এ বাবার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “যখন আমি সেই মানুষদের কথা ভাবি, যারা আমার সফরকে গড়ে দিয়েছেন, তখন আমার শুরুটা ক্রিকেট মাঠ বা কোচকে দিয়ে হয় না। আমার শুরু হয় বাড়ি থেকে। যখন আমাকে বাইরে কেউ চিনত না, তখন আমার বাবা ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসা চিনে নিয়েছিলেন এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে বুঝেছিলেন, এর মানে আমার কাছে কী। তিনি জানতেন না ক্রিকেটে আমি কতটা বড় হতে পারব, কিন্তু তিনি আমাকে তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।”

তিনি আরও লেখেন, “আমার বাবা, রমেশ তেন্ডুলকর, একজন লেখক, কবি এবং অধ্যাপক ছিলেন, কিন্তু তার চেয়েও বেশি তিনি আমার জন্য এবং আরও অনেকের জন্য মেন্টর ও গাইড ছিলেন। তিনি আমাকে ক্রিকেট খেলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, পাশাপাশি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে সাফল্য কখনও চরিত্রের বিনিময়ে আসা উচিত নয়। ছোটবেলায় বাবার বলা কিছু কথা আমার সঙ্গে সারা জীবন রয়ে গেছে। তিনি বলেছিলেন, হার মানা ঠিক আছে, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনও শর্টকাট নেবে না। আমি শুধু একজন ছেলে ছিলাম, যে ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসত। আমার বাবা তাতে আরও কিছু দেখেছিলেন। তিনি আমাকে কী হতে হবে তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং, তিনি আমাকে নিজে সেটা খুঁজে বের করার জন্য জায়গা এবং সমর্থন দিয়েছিলেন। অনেক দিক থেকেই, একজন মহান শিক্ষক বা মেন্টর এটাই করেন। তাঁরা আপনার মধ্যে সেই সম্ভাবনাকে চিনে নেন, যা আপনি নিজে চিনতে পারেন না।”

সচিন আরও লেখেন, “ভারতে তরুণ প্রতিভার কোনও অভাব নেই। কোনও শিশু ব্যাট তোলে, বল তোলে, বই তোলে বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা চিনে নেয়, সেটাই তাকে নিজের মতো করে বিশেষ করে তোলে। তাদের মধ্যে প্রায়ই প্রতিভার অভাব থাকে না, বরং এমন মানুষের কাছে পৌঁছানোর অভাব থাকে, যারা সেই প্রতিভা চিনতে পারে এবং তাকে আরও শাণিত করতে সাহায্য করতে পারে। এই ভাবনাই সেই ফাউন্ডেশন শুরু করার পেছনে মূল কারণ ছিল, যা অঞ্জলি এবং আমি শুরু করেছিলাম। সারা ভারতে এমন অনেক শিশু আছে, যাদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তারা হয়তো কখনও নিজেদের ক্ষমতা চিনে নেওয়ার সুযোগ পায় না, কারণ তাদের কাছে কোচ, মেন্টর, শেখার সঠিক পরিবেশ বা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকে না। আমাদের লক্ষ্য হল, তাদের খেলাধুলা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষায় সমান সুযোগ দেওয়া, এবং প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া যে তারাও এগিয়ে যেতে পারে।”

‘Professor Ramesh Tendulkar Memorial Fellowship’-এর সূচনা

সচিন আরও লেখেন, “আমার বাবা শিক্ষক হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন, এবং আমার মনে হয় তিনি আমাকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা হল—কারও নিজের ক্ষমতা চিনে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং সেই সুযোগ দেওয়ার গুরুত্ব। এই শিক্ষক দিবসে, আমরা সেই প্রথম মানুষটিকে সম্মান জানানোর সুযোগ নিচ্ছি, যিনি আমার মধ্যে কিছু দেখেছিলেন এবং আমি কী হতে পারি, সে বিষয়ে আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের দীর্ঘদিনের healthcare partner, ‘Inga Health Foundation’-এর সঙ্গে মিলে ‘Professor Ramesh Tendulkar Memorial Fellowship’ শুরু করছি।”

তিনি আরও লেখেন, “প্রতি বছর, একজন MD -কে শ্রীনগরে cleft এবং craniofacial care-এ specialization করার এক বছরের সুযোগের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রোগ্রাম শেষ হলে, fellow-কে সচিন তেন্ডুলকর ফাউন্ডেশন থেকে তাঁর উৎকৃষ্ট পারফরম্যান্সের জন্য একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এটি সেই বিশ্বাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি উপায়, যা আমার বাবা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন—শিক্ষা সুযোগ তৈরি করে, এবং সেই সুযোগ তখনই সত্যিকারের অর্থবহ হয়, যখন তা অন্যদের সেবায় ব্যবহার করা হয়.”

পোস্টের শেষে সচিন লেখেন, “আমার বাবা আমাকে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জীবন অন্যদের শিক্ষিত করা এবং পরামর্শ দেওয়ার কাজে উৎসর্গ করেছিলেন, এবং আমি আশা করি আমরা অন্যদের জন্যও সম্ভাবনার তেমনই একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারব, যাতে শিশু ও তরুণরা জানতে পারে তারা কী হতে পারে, এবং তা অর্জনের উপায়ও পায়।”

(Feed Source: abplive.com)