)
শেফালি ভার্মা লিখলেন T20I ইতিহাস, একই দিনে জোড়া রেকর্ডে ছাপিয়ে গেলেন সবাইকে, গর্ব হবে দেশের মেয়ের কীর্তি জানলে। পাকিস্তানকে এশিয়াডে হারানোর দিনেই মাইলস্টোন
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টিম ইন্ডিয়ার স্টার শেফালি ভার্মা তাঁর অসাধারণ কেরিয়ারে আরও জোড়া মাইলস্টোন তৈরি করেছেন। শুনেছেন কি? না শুনলে শুনুন তাহলে। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতি কেরিয়ারে ৩০০০ রান পূর্ণ করা সর্বকনিষ্ঠ ও দ্রুততম ব্যাটার হয়েছেন শেফালি। গত শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মেয়েদের এশিয়া কাপের গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ওপেনার জোড়া নজির গড়ে ইতিহাস লিখেছেন। ২২ বছর ২২৪ দিন বয়সে শেফালি আয়ারল্যান্ডের গ্যাবি লুইসকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। লুইস যখন ৩০০০ টি-টোয়েন্টিআই রান পূর্ণ করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর ৩৪৭ দিন। এছাড়া শেফালি মাত্র ২১৮২ বল খেলে এই মাইলস্টোন স্পর্শ করে অস্ট্রেলিয়ার তারকা খেলোয়াড় অ্যালিসা হিলির ২৩২১ বলের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিআই অভিষেক হওয়া শেফালি এখন তাঁর দুই সিনিয়র সতীর্থ হরমনপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মান্ধানার পর তৃতীয় ভারতীয় মহিলা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে ৩০০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করলেন। তাঁর ব্য়াটিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্যই হল আক্রমণাত্মক খেলার ধরন, যা তাঁকে মেয়েদের ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী ওপেনারে পরিণত করেছে। বয়স মাত্র ২২ হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেফালি ইতোমধ্যেই প্রচুর অভিজ্ঞ।
শেফালির ঝোড়ো সূচনা ও ভারতের স্পিনের জাল
শেফালি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর স্বভাবসুলভ বিধ্বংসী ভঙ্গিতেই মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন। সাদিয়া ইকবালের করা ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের রান তাড়া করার খেলা শুরু করেন তিনি। এরপর পরের বলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ৩০০০ রান। এরপর আরও এক রান যোগ করার পরপরই আক্রমণে আসেন ফাতিমা সানা এবং দ্রুতই সাফল্য পান। শেফালি একটি শর্ট ও ওয়াইড বলকে চার মারলেও দু’বল পরেই আউট হয়ে যান। ৬ বলে ১২ রান (একটি চার ও একটি ছক্কা) করে তিনি ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হন। তবে তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ ঝোড়ো ইনিংসটি ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। এর আগে পাকিস্তান ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল। যা মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন রান। ভারতের স্পিনার শ্রী চরণি ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে এবং দীপ্তি শর্মা দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন। বিনা উইকেটে ২৭ রানের ভালো সূচনা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ইনিংস ধসে পড়েছিল। রান তাড়া করতে গিয়ে ভারত কিছুটা হোঁচট খায় এবং তিনটি উইকেট হারায়। তবে হরমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা ৮.৪ ওভারেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এবং ৬৮ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটের জিতিয়ে দেন। এশিয়াডে এই জয়ের ফলে ভারত ছয় পয়েন্ট ও +৫.৪৭১ নেট রান রেট নিয়ে গ্রুপ পর্বের শীর্ষে থেকে তাদের অভিযান শেষ করল। এখন তারা সেমিফাইনালে নিজেদের প্রতিপক্ষের অপেক্ষায়। গ্রুপ ‘বি’ থেকে সেমিফাইনালের বাকি দু’টি স্থানের জন্য বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আমিরশাহি লড়াই করছে।
(Feed Source: zeenews.com)
