)
Anak Krakatau Volcanic Eruption: ২৫ ঘণ্টা ধরে চলছে অতিভয়াল অগ্নুৎপাত-লাভাস্রোত! ৫০ হাজার ফুট উঁচু বীভৎস বিষফণায় বাতিল হয়েছে ২৩০০ বিমান! আবার মহাসুনামির প্রলয়?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির কথা শুনেছেন? যা পৃথিবীর এক বিস্ময়কর ও জীবন্ত ইতিহাসের দলিল। সুন্দা প্রণালীতে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের ঠিক মাঝে এর অবস্থান। শেষ কয়েকদিন ধরে ফের শিরোনামে এই আনাক ক্রাকাতাউ। একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে বর্তমানের প্রসঙ্গে আসার আগে। সাল ১৮৮৩- ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ও বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ ঘটেছিল মূল ক্রাকাতাউ দ্বীপে। সেই ভয়াল বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো দ্বীপটিই প্রায় সমুদ্রের নীচে তলিয়ে গিয়েছিল। এর শব্দ হাজার হাজার মাইল দূর থেকেও শোনা গিয়েছিল। কাট টু ১৯২৭। মূল ক্রাকাতাও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঠিক ৪৪ বছর পর সমুদ্রের নীচে আবার উদগিরণ! ছাই আর লাভা জমতে জমতে সমুদ্রের বুক চিরে জন্ম নেয় এক নতুন দ্বীপ। আর এভাবেই পৃথিবীর বুকে আগমন ঘটে আনাক ক্রাকাতাউয়ের (ইন্দোনেশীয় ভাষায় ক্রাকাতাউয়ের সন্তান)। জন্মের পর থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় আনাক ক্রাকাতাউ। বিগত ২৫ ঘণ্টা ধরে সেখানে বিশাল অগ্নুৎপাত ঘটেছে! ফলে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছাইয়ের বিশাল কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ার ভ্রমণ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
আনাক ক্রাকাতাউয়ে বর্তমান পরিস্থিতি
গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে এই আগ্নেয়গিরির থেকে অবিরাম অগ্নুৎপাত শুরু হয়। সপ্তাহান্ত জুড়ে তা অব্যাহত থাকে; এর ফলে শক্তিশালী উদ্গীরিত লাভার ফোয়ারার সঙ্গেই তীব্র কম্পন এবং আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের ঘন মেঘ সৃষ্টি হয়। যদিও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি এখনও। তবে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে। জাকার্তার প্রাইমারি হাব সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হালিম পারদানাকুসুমা-সহ অঞ্চলের সাতটি বড় বিমানবন্দর তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। বাতাসে ছাইয়ের উপস্থিতি রয়ে যাওয়ায় এই বন্ধের সময়সীমা সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২৩০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে! যার ফলে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রীর চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ছাইয়ের মেঘ জাকার্তা ও লাম্পুং প্রদেশের কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় স্কুলগুলিকে অনলাইনে ক্লাস নিতে বাধ্য হয়েছে। উপকূলীয় মৎস্য আহরণ ও নৌ-চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখাও হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশনের তথ্যমতে অবিরাম অগ্নুৎপাতের পর্যায়টি থেমে গেলেও আগ্নেয়গিরি এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল স্ট্রম্বোলিয়ান অগ্নুৎপাতের আকার ধারণ করেছে। একেবারে সহজ কথায়, এই অগ্নুৎপাতের তরল লাভা এবং গ্যাসের বুদবুদ আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে আকাশের দিকে ছিটকে বেরিয়ে আসে। যা দেখতে এক ধরণের প্রাকৃতিক আতশবাজির মতো লাগে। এর অর্থ, এটি এখন বিরতি দিয়ে দিয়ে জ্বলন্ত পাথরের টুকরো এবং কালো ছাইয়ের কুণ্ডলী জ্বালামুখ থেকে ৩০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত নিক্ষেপ করছে। সক্রিয় জ্বালামুখটিকে ঘিরে ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি কঠোর নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তপ্ত ছাই পড়া, লাভা প্রবাহ এবং আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত গ্যাসের ঝুঁকির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং নৌ-যান পরিচালনাকারীদের এই সীমার মধ্যে প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আনাক ক্রাকাতাউয়ের ইতিহাস
আনাক ক্রাকাতাউয়ের ইতিহাস বলছে, প্রতি বছর গড়ে কয়েক মিটার করে উচ্চতা বাড়ছিল তার এক সময়ে। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এক বড় উদ্গিরণের ফলে এর একটি বিশাল অংশ ধসে সমুদ্রে পড়ে যায়, যা একটি মারাত্মক সুনামির সৃষ্টি করেছিল। যা কেড়েছিল ৪৭০০ প্রাণ। এই ঘটনার পর আগ্নেয়গিরি তার আগের উচ্চতার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়ে ফেলে। ফলে অনেকেই ফের সুনামির আশঙ্কা করছিল। কিন্তু আপাতত সুনামির কোনও সতর্কবার্তা নেই। এটাই স্বস্তির বার্তা।
(Feed Source: zeenews.com)
