
Waste Plastic to Fuel Technology: ফেলনা প্লাস্টিকই এবার মেটাবে জ্বালানির ঘাটতি! বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসকে ১০০ শতাংশ প্লাস্টিকমুক্ত করতে এক ধামাকাদার উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হলেন প্রাক্তন রসায়ন বিজ্ঞানী পূর্ণব্রত চক্রবর্তী। তাঁর নিজস্ব পেটেন্ট করা প্রযুক্তিতে উত্তাপের সাহায্যে যত্রতত্র পড়ে থাকা বিষাক্ত প্লাস্টিক গলে তৈরি হবে খাঁটি পেট্রোলিয়ামজাত তেল ও রান্নার গ্যাস। বিজ্ঞানের এই অভিনব ম্যাজিক বাস্তবায়নে গ্রিন সিগন্যাল দিচ্ছে বিশ্বভারতী।
বীরভূম, সৌভিক রায়: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিক দূষণ সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে একাধিক বার নিষেধ করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষজন অবাধে ব্যবহার করছে প্লাস্টিক। তবে এবার কবিগুরুর প্রাণের শহর বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস এলাকার প্লাস্টিক মুক্ত করতে উদ্যোগ নিল এক বাঙালি বিজ্ঞানী। যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিক সংগ্রহ করে এবং বর্জ্য থেকে তৈরি করা হবে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি ও গ্যাস। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে বিশ্বভারতীকে প্রস্তাব দিয়েছে বিজ্ঞানী পূর্ণব্রত চক্রবর্তী।
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাবের জন্য সাড়া দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। যদি এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয় তাহলে কবিগুরুর বোলপুর শান্তিনিকেতনের ক্যাম্পাস এলাকা এবং রাস্তাঘাট প্লাস্টিক মুক্ত হবে পাশাপাশি সেই প্লাস্টিক থেকে পেট্রোলিয়ানজাত জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বোলপুর শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লীর বাসিন্দা পূর্ণব্রত চক্রবর্তী ২০০৮ সাল থেকে তিনি গবেষণা করে চলেছেন। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে গবেষণা করার পর ২০১৮ সালের পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন তিনি।
পূর্ণব্রত চক্রবর্তী বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসত্রের প্রাক্তন ছাত্র। এর পরবর্তী সময়ে শিক্ষাভবনের রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা করেন। অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে পিএইচডিও করেন। ইন্ডিয়ান অয়েলে তাঁর কর্মজীবন শুরু। জানা গিয়েছে, তেল পরিশোধন প্রকল্পের কাজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছেন তিনি, পেয়েছেন বিদেশে কাজের সুযোগ।
বাঙালি বিজ্ঞানী পুণ্যব্রত চক্রবর্তীর দাবি, তাঁর প্রযুক্তিতে উত্তাপের সাহায্যে প্লাস্টিককে ভেঙে গ্যাস ও তরলে পরিণত করা সম্ভব। পরবর্তীতে শুদ্ধিকরণ ও শীতলীকরণের মাধ্যমে দু’টি আলাদা করা যায়। প্লাস্টিক থেকে উৎপাদিত জ্বালানি রান্নার গ্যাস এবং জ্বালানি তেল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। তিনি জানান, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমরা নানা দিক থেকে উপকৃত হব। শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসও প্লাস্টিকমুক্ত থাকবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।” যদিও এই বিষয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তরফ থেকে জানা গিয়েছে খুব শীঘ্রই আলাপ আলোচনা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা হবে।
(Feed Source: news18.com)
