)
US Iran War Updates: ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালানো মার্কিন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৬১ জন নারী এবং ৪৪ জন নাবালক রয়েছেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত জুলাইয়ের পরে গতকাল বুধবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পারস্পরিক হামলার ঘটনাটি ঘটল। ইরান ও এর আরব প্রতিবেশী দেশগুলি ফের যুদ্ধের আশঙ্কায় নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরানও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা গোলাবর্ষণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছে। ইরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে, যেখানে চারজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে এই সংঘাতের পরে এশিয়া এবং ইউরোপীয় শেয়ার বাজারে নেমেছে বড় ধস। যা তেলের দামকে আবার এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা গত জুলাই মাসের পরে আর দেখা যায়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে- – ইরানের বিভিন্ন জায়গায় মার্কিনি বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রেডার সিস্টেম, সামুদ্রিক সম্পদ, মাইন বিছানোর সক্ষমতা এবং যোগাযোগকেন্দ্রগুলিতে আঘাত হেনেছে। ওদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীর কাছে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। প্রণালীর তীরবর্তী সিরিক কাউন্টির ৩৮ বছর বয়সী এক পুরসভা কর্মী বলেন, গত রাতটি মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন। ইরান এর জবাবে বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হিসেবে দাবি করা জায়গাগুলিতে আঘাত হেনেছে। ইরান বলেছে, তাদের লক্ষ্য, পশ্চিম এশিয়া জুড়ে কয়েক দশক ধরে দখল করে রাখা সামরিক ঘাঁটির বিশাল নেটওয়ার্ক থেকে মার্কিন বাহিনীকে তাড়িয়ে দেওয়া।
আরও কঠোর, ব্যাপক এবং ধ্বংসাত্মক
এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও অপকর্মের জবাব দেওয়া হবে আরও কঠোর, ব্যাপক এবং ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। যে দেশই আক্রমণাত্মক মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তাকেই এর বিপজ্জনক পরিণতি মেনে নিতে হবে– বলেছে ইরানের সামরিক কমান্ড। ইরান বলেছে, তারা জর্ডন এবং উত্তর ইরাকের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের হত্যা করেছে, কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি আছে। কাতার হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে আমেরিকা এবং এর পাল্টায় যা যা ঘটবে, সেজন্য ইরানই দায়ী থাকবে বলে জানিয়েছে তারা। ওদিকে, বাহরিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান দফতর আছে। তারা জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ড্রোনগুলিকে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছনোর আগেই মাঝপথে আটকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
রক্তেভেজা কার্পেটে
ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন কর্মীদের পরিচালিত দুটি ট্যাংকারে মাইন দিয়ে হামলা করেছে। তবে ওয়াশিংটন বলেছে, ইরানের হামলার পরও তারা প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করছে। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, সোমবার ১৭ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার কারণে যুদ্ধ আবার পুরোদমে শুরুর সংকেত মেলায় আশঙ্কায় আছে ইরানিরা। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, হামলা হওয়া বাড়িটির ঘর ও উঠানে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। রক্তেভেজা একটি কার্পেটে পড়ে রয়েছে মহিলাদের পোশাক ও স্যান্ডেল। দেখলেই শিউরে উঠতে হয়!
(Feed Source: zeenews.com)
