)
বিশ্বমঞ্চে রুপো জিতেও যৌন হেনস্থার শিকার বঙ্গকন্যা কেয়া কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিকৃতি ভিডিয়োতে ছয়লাপ নেটপাড়া! এবার মুখ খুললেন পাওয়ারলিফটার
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: খবরে বঙ্গকন্যা কেয়া কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিশ্ব সাব-জুনিয়র এবং জুনিয়র ক্লাসিক পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপের রুপো জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ২১ বছরের মেয়ে তাঁর দেহের ওজনের চেয়েও তিনগুণ বেশি ওজন তুলে চমকে দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের জুনিয়র বিভাগে (৪৭ কেজি ওজন ক্যাটেগরিতে) ডেডলিফটে ১৪০ কেজি ওজন তুলেছিলেন কেয়া। যাঁর নিজের ওজন যেখানে ৪৫.৭০ কেজি!কেয়ার পাওয়ারলিফটিংয়ের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কেয়ার কৃতিত্বই শুধু ভাইরাল হয়নি। কিছু অসাধু নেটব্য়বহারকারীরা কেয়ার শরীর এবং রূপ নিয়ে মন্তব্য করে বিকৃত মস্তিষ্কের পরিচয় দিয়েছেন। যৌনগন্ধী মন্তব্যেই শেষ হয়নি! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কেয়ার মুখ এবং শরীরের বিকৃতি ঘটিয়ে, খারাপ ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নেটদুনিয়ায়। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ কেয়া। সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন কেয়া। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি চরম পর্যায়ের লিঙ্গবৈষম্য। এর চেয়ে আলাদা ভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কখনও একজন পুরুষের সঙ্গে করা হয় না। এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। কোনও চ্যাম্পিয়নশিপ বা বড় কোনও সাফল্য অর্জনের পর একজন পুরুষ অ্যাথলিটকে কখনই এমন কিছুর সম্মুখীন হয় না। আলোচনার সিংহভাগই আবর্তিত হয়েছে আমার বাহ্যিক রূপ বা চেহারার বিষয়টিকে ঘিরে। সবাই কেবল আমার বাহ্যিক রূপ নিয়েই কথা বলছে। আর বিষয়টি আমাকে সত্যিই খুব কষ্ট দিয়েছে। কারণ নিজের জন্য এবং আমার খেলার জগতে আমি অত্যন্ত বড় এক সাফল্য অর্জন করেছি।’
অসাধারণ সাফল্যের অনাকাঙ্ক্ষিত রেশ
অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কেয়া বলেন, হঠাৎ পাওয়া এই প্রচার সামলানো বেশ কঠিন ছিল তাঁর পক্ষে। তবে একই সঙ্গে নিজের ক্রীড়াজীবন নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। কেয়া বলেন, “আসলে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। কারণ এর মাধ্যমে আমি খেলাটির প্রতি আমার ভালোবাসা এবং আমার পারফরম্যান্স বা ফলাফলের উন্নতির যাত্রার কথা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি। তাই সেই পরিস্থিতি আমি কাটিয়ে উঠেছি—নিশ্চিত ভাবেই কাটিয়ে উঠেছি। তবে মাঝখানের সময়টা কিছুটা কঠিন ছিল।’ খেলার মাঠে কেয়ার এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, যা তাঁর নাম দেশের প্রতিশ্রুতিবান পাওয়ারলিফটারদের তালিকায় রেখেছে। ১৪০ কেজি ডেডলিফটের পাশাপাশি তিনি ৯০ কেজি স্কোয়াট ও ৫০ কেজি বেঞ্চ প্রেসও করেছেন। সব মিলিয়ে মোট ২৮০ কেজি ওজন তুলে জুনিয়র নারী বিভাগে (৪৭ কেজি ক্যাটাগরি) সামগ্রিক ভাবে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন।
কেয়ার কেরিয়ার ও অর্জন
পেশাদার প্রতিযোগিতায় কোনও প্রাথমিক পরিকল্পনা ছাড়াই কেয়ার পাওয়ারলিফটিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ব্যক্তিগত তৃপ্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য তিনি জিমে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি এই খেলার সঙ্গে পরিচিত হন। সেই বন্ধুট ছিলেন বিশ্বমানের পাওয়ারলিফটিং কোচ এবং ভারতের স্বর্ণপদকজয়ী। কেয়া বলেন, ‘শুরুর দিকে আমি কেবল ব্যক্তিগত তৃপ্তি এবং স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্যই জিমে যেতাম। কিন্তু আমার এক বন্ধু পাওয়ারলিফটিং কোচের পাশাপাশি বিশ্বপর্যায়েও প্রতিযোগিতা করত। সে দেশের হয়ে সোনাও জিতেছিল। তাই আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম ওকে দেখে এবং এই খেলা কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলাম।’ স্কোয়াট, বেঞ্চ প্রেস এবং ডেডলিফ্টে কেয়ার পারফরম্যান্স বা ওজন তোলার সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেই কৌতূহল একসময় প্রতিযোগিতামূলক আকাঙ্ক্ষায় রূপ নেয়। কেয়া পাওয়ারলিফটিংয়ের কারিগরি দিকগুলির উপরও জোর দেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য কেবল ভারী ওজন তোলার ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি কিছুর প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ‘এতে অনেক নিয়মকানুন আছে—যেমন, আপনার তোলা ওজন বা ‘লিফট’-কে রেফারির নির্দেশ অনুযায়ী হতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডেডলিফট সম্পন্ন করার পর আপনি চাইলেই বারবেলটি ছেড়ে দিতে পারেন না। রেফারি নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেই কেবল তা নামানো যায়। সুতরাং এটি অত্যন্ত কারিগরি বা কৌশল-নির্ভর এক খেলা এবং এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িয়ে।’ কেয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পর পাওয়ারলিফটিংয়ে নিজের যাত্রা এগিয়ে রাখার উপরই ফোকাস রেখেছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
