)
Indian Railways fine: রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনে নোংরা করলে এবার ৫০০ নয়, দিতে হবে আরও বেশি জরিমানা। ২৪ অগাস্টের গেজেট বিজ্ঞপ্তির পর সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শুধু আবর্জনা ফেলা নয়, নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে রান্না, স্নান, থুতু ফেলা, প্রস্রাব-পায়খানা করা, পশু-পাখিকে খাবার দেওয়া, কাপড় বা বাসন ধোয়া, পোস্টার লাগানো কিংবা ট্রেনে লেখা—এগুলিও জরিমানার আওতায় পড়বে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ট্রেনে উঠছেন বা রেলস্টেশনে যাচ্ছেন? তাহলে এবার থেকে আরও সাবধান হতে হবে। কারণ রেলের নিয়ম ভাঙলে পকেট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে মোটা টাকা। রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনের ভিতরে আবর্জনা ফেললে এবার ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এতদিন এই জরিমানার পরিমাণ ছিল ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হল জরিমানার টাকা। রেলের এই নতুন নিয়ম শুধু আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের কামরায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও বেশ কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রেলের সংশোধিত নিয়ম ২৪ অগাস্ট ২০২৬-এর গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়মের নাম Indian Railways Amendment Rules, 2026। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেলস্টেশন বা ট্রেনের ভিতরে নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া কোথাও আবর্জনা ফেলা, ছুড়ে দেওয়া বা জমিয়ে রাখা যাবে না। আগে এই অপরাধে জরিমানা ছিল ৫০০ টাকা। এখন সেটাই বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছে।
শুধু আবর্জনা ফেললেই নয়, আরও অনেক কাজ নিষিদ্ধ
রেলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে একাধিক কাজ করলেও জরিমানা হতে পারে। যেমন– রেলস্টেশন বা ট্রেনের ভিতরে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা, নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া রান্না করা, স্নান করা, থুতু ফেলা, প্রস্রাব বা পায়খানা করা, রেল চত্বরে পশু বা পাখিকে খাবার দেওয়া, গাড়ি ধোয়া, বাসন বা কাপড় ধোয়া, রেল চত্বরে কোনও জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা বা মজুত করা। অর্থাৎ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করতে পারে এমন বিভিন্ন কাজই এখন রেলের নজরে থাকবে।
ট্রেনে লেখা বা পোস্টার লাগালেও জরিমানা
ট্রেনের কামরা বা রেলের সম্পত্তিতে ইচ্ছেমতো পোস্টার লাগানো, স্লোগান বা কোনও বার্তা লেখা কিংবা ছবি আঁকাও নিষিদ্ধ। রেল কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কাজ করলে সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই ট্রেনের কামরায় নিজের নাম লেখা, কোনও বার্তা লিখে দেওয়া বা পোস্টার সাঁটানোকে আর নিছক মজা হিসেবে দেখবে না রেল।
বিক্রেতাদের জন্যও নিয়ম
রেলস্টেশন বা রেল চত্বরে কাজ করা অনুমোদিত বিক্রেতা ও হকারদেরও নতুন নিয়ম মানতে হবে। তাঁদের নিজেদের কাছে আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন বা বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গাতেই ফেলতে হবে। অর্থাৎ শুধু যাত্রী নয়, রেল চত্বরে পরিষেবা দেওয়া অনুমোদিত বিক্রেতাদেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
কারা জরিমানা নিতে পারবেন?
রেলের তরফে নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিককে এই জরিমানা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন— স্টেশন মাস্টার, স্টেশন ম্যানেজার, কমার্শিয়াল বিভাগের টিকিট কালেক্টর, অপারেটিং বিভাগের সমমর্যাদার আধিকারিক, রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত অন্যান্য আধিকারিক, অর্থাৎ নিয়ম ভাঙলে ঘটনাস্থলেই নির্দিষ্ট রেল আধিকারিক জরিমানা আদায় করতে পারেন।
জরিমানা না দিলে কী হবে?
কেউ যদি ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালতে মামলা হলে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তাই ১০০০ টাকা জরিমানা এড়াতে গিয়ে বিষয়টি আরও বড় করে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এই নিয়ম?
রেলের লক্ষ্য মূলত রেলস্টেশন এবং ট্রেনের ভিতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের কামরায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, থুতু ফেলা বা অন্যান্য অপরিচ্ছন্ন কাজের কারণে পরিবেশ নোংরা হয়। সেই প্রবণতা কমাতেই জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তাই এবার থেকে ট্রেনে বা স্টেশনে গেলে শুধু নিজের গন্তব্যের কথা ভাবলেই হবে না, কোথায় কী করছেন, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। নয়তো সামান্য অসাবধানতাতেই ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
