)
নেপাল কি মুছেই যাবে এবার মানচিত্র থেকে? বিপদসীমার উপরে বইছে দানবীয় বাগমতী! বুক কাঁপাচ্ছে রাক্ষুসে স্রোত, ভিডিয়ো ফুটেজে হাড়হিম! অগস্ট আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ফের মহাপ্রলয়!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত! যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত। বাগমতী নদীর জল বেড়ে তা তীর উপচে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী নীচু এলাকার বাসিন্দাদের ঘুম উড়েছে তাঁরা রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন। অবিরাম এবর্ষণের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগ শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে; বিশেষ করে গণ্ডকী ও লুম্বিনি প্রদেশের কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভুললে চলবে না নেপাল কিন্তু এখনও অগস্টের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমালয়ের হিমবাহ ধসে হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে দেড় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস প্রদানকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে নদীর জলের স্তর ও দুর্যোগের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করছে। অব্যাহত বৃষ্টির ফলে নদী ও জলপ্রবাহে জলের স্তর বেড়ে যাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। হিমালয় সীমান্ত অঞ্চল থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত ভোটেকোশী নদী বন্যার জল ভাটির দিকে বয়ে নিয়ে যায়, যার ফলে ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে গিয়েছিল এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুর্যোগে ১৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ৫৬০০ জন এখনও নিখোঁজ! বর্তমানের বৃষ্টি গত ২৬ অগাস্টের সেই বন্যার পুনরাবৃত্তি নয়, তবে কর্তৃপক্ষ ও আবহাওয়াবিদরা নতুন করে বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন—যার মধ্যে রয়েছে ভূমিধস, বন্যা, ধ্বংসাবশেষ বা কাদা-পাথরসহ প্রবাহ! রাস্তাঘাট ও অন্যান্য পরিকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
কোন এলাকাগুলি ঝুঁকির মুখে
অগাস্ট মাসের দুর্যোগে যেসব এলাকার রাস্তাঘাট, নদীর তীর এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় ঝুঁকিটা বিশেষ ভাবেই বেশি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে অগাস্টের দুর্যোগে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত দু’টি জেলায় নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পুলিসের মতে, ধাদিং জেলায় পৃথ্বী মহাসড়কের সাতটি স্থানে ভূমিধস হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণভির ও তিগ্রাং খোলা এলাকায় রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচটি স্থানে যান চলাচল একটি লেনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, অবিরাম বৃষ্টিপাত ও বারবার ভূমিধসের কারণে ধ্বংসস্তূপ বা মাটি সরানোর কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বন্ধ হচ্ছে পরের পর মহাসড়ক
অগাস্টের বন্যার কারণে ১৮ দিন বন্ধ থাকার পর পৃথ্বী মহাসড়ক সম্প্রতি পুনরায় চালু হয়েছিল। বন্যায় কৃষ্ণভীর এলাকার মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর সেখানে একটি নতুন পথ খুলে দেওয়া হয়। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী চিতওয়ান এলাকায় অবিরাম বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে পৃথ্বী মহাসড়ক এবং নারায়ণগড়-মুগ্লিন সড়কটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ কিছু প্রধান মহাসড়কে চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ-সহ অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভারী বৃষ্টিপাতের সময় জনগণকে সতর্ক থাকতে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং নদী ও জলধারার নিকটবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
