Smit Machchhar : ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচালেন পাইলট স্মিত মাচ্ছার, ৪০ বছর আগে কর্তব্য পালনে প্রাণ দিয়েছিলেন নীরজা ভানোট, মনে আছে?

Smit Machchhar : ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচালেন পাইলট স্মিত মাচ্ছার, ৪০ বছর আগে কর্তব্য পালনে প্রাণ দিয়েছিলেন নীরজা ভানোট, মনে আছে?

Smit Machchhar : আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে নীরজা ভনোট ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা থেকে বহু যাত্রীকে রক্ষা করেছিলেন। এবার স্মিত মাচ্ছারও সেই কাজটাই করলেন একপ্রকার।

মুম্বাই: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখোমুখি হয়েও ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে প্রশংসিত হচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ককপিটে প্রাণঘাতী আক্রমণ সত্ত্বেও তাঁর নেওয়া সময়োচিত ও সাহসী পদক্ষেপ ১৯৮৬ সালের বীরাঙ্গনা নীরজা ভানোটের (Neerja Bhanot) অবিস্মরণীয় বীরত্বের স্মৃতিকে আবার তাজা করে তুলেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই (FZ1073) বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি যখন উত্তর সৌদি আরবের আকাশসীমায় পৌঁছায়, তখন ককপিটের ভেতরেই ওমানি সহ-পাইলট হঠাৎ ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায় এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে।

জখম অবস্থাতেও বিমান নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত স্টিয়ারিং ছাড়েননি এবং বুদ্ধি করে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে বাইরের কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করতে সমর্থ হন। এর পর বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। স্মিতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীই সুরক্ষিত থাকেন। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে এভিয়েশনে আসা স্মিত মাচ্ছারের রয়েছে দীর্ঘ ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা। প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা বিমান উড়িয়েছেন তিনি।

১৯৮৬ সালের নীরজা ভানোটের আত্মত্যাগ আজও অনেকের মনে আছে। ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর করাচি বিমানবন্দরে সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহৃত ‘প্যান এম ফ্লাইট ৭৩’-এর সিনিয়র পার্সার ছিলেন ২৩ বছর বয়সী নীরজা ভানোট। ককপিট ক্রুদের নিরাপদে বের হতে সাহায্য করা, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আমেরিকান যাত্রীদের পাসপোর্ট লুকিয়ে রাখা এবং শেষ মুহূর্তে গুলিবর্ষণের সময় নিজের জীবন বাজি রেখে তিন শিশুকে বাঁচিয়ে শত শত যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন নীরজা।

পরবর্তীকালে ১৯৮৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্রে ভূষিত করা হয়। সময়ের ব্যবধান চার দশকের হলেও, চরম সংকট মুহূর্তে এই দুই ভারতীয়র উপস্থিত বুদ্ধি ও বীরত্ব আন্তর্জাতিক এভিয়েশনের ইতিহাসে অনন্য নজির হয়ে থাকবে।

(Feed Source: news18.com)