)
Premananda Maharaj Controversy: ফলাহারী মহারাজ একটি চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন যে, প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও আলোচিত করে তোলার উদ্দেশ্যে তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলিকে সেখানে আনা হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এর জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে আশ্রমে আনা হয়েছিল বিরাট কোহলিকে? প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমকে ঘিরে বিতর্কের ঝড়। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও বৃন্দাবনের বিশিষ্ট সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমকে কেন্দ্র করে এক নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি ও তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মার প্রেমানন্দর আশ্রমে আসা নিয়ে এবং আশ্রমের ভেতরের কার্যকলাপ নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি ফলাহারী মহারাজের লেখা একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে এই তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ফলাহারী মহারাজ একটি চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন যে, প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও আলোচিত করে তোলার উদ্দেশ্যে তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলিকে সেখানে আনা হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এর জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিরাট কোহলিকে আশ্রমে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ফলাহারী মহারাজের অভিযোগ– পরবর্তীকালে ওই এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি সাধুর ছদ্মবেশ নিয়ে আশ্রমে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে তাঁরা আশ্রমের সম্পত্তি ও জমি সংক্রান্ত নানা কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে কোনও নিরপেক্ষ প্রমাণ বা অফিশিয়াল নথি এখনও মেলেনি।
জমির কারবার ও যমুনার প্লাবনভূমি
চিঠিতে বৃন্দাবন এবং নিউ কেলিবন (বা বেলবন) আশ্রম সংলগ্ন এলাকার জমি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলাহারী মহারাজের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে যমুনা নদীর প্লাবনভূমি (floodplain/ডুব অঞ্চল)-র জমি কেনাবেচার অবৈধ চক্র চলছে। আশ্রমে সাধুর বেশে থাকা বহিরাগত ব্যক্তিদের এই জমি কারবারের সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন এবং বিষয়টি অবিলম্বে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
শিশু নিখোঁজ ও কিডনি চুরির অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবি
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হিসেবে ফলাহারী মহারাজ তাঁর চিঠিতে শিশু নিখোঁজ হওয়া এবং অবৈধ কিডনি পাচারের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলিরও উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, আশ্রম ও তার সংলগ্ন এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্য উদ্ঘাটনের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই (CBI)-কে দিয়ে তদন্ত করানো জরুরি। তবে প্রশাসন বা পুলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা এফআইআর (FIR) দায়ের হয়নি, ফলে এগুলোকে মূলত অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও Z+ নিরাপত্তার আবেদন
বিতর্কিত সব অভিযোগ তুললেও সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন ফলাহারী মহারাজ। তিনি জানান, প্রেমানন্দ মহারাজ সনাতন হিন্দু ধর্মের এক অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় সন্ত। তবে তাঁর চারপাশে থাকা কিছু অসাধু লোক তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
মহারাজকে ওই ধরনের সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার আবেদন জানানোর পাশাপাশি তাঁর সুরক্ষায় যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সেজন্য সরকারের কাছে প্রেমানন্দ মহারাজকে Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া, তাঁকে সুরক্ষিত স্থানে (যেমন গোবর্ধন গিরিরাজ এলাকায়) থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ফলাহারী মহারাজের এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিরাট কোহলি সংক্রান্ত ৫ কোটি টাকার দাবি কিংবা অন্যান্য মারাত্মক অভিযোগগুলোর পেছনে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামগ্রিক বিষয়টি এখন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং তদন্তের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
