৪৯ শতাংশ নম্বর থেকে UPSC-তে সাফল্য, পঞ্চম প্রচেষ্টায় সিভিল সার্ভিস ক্র্যাক করেন ‘ব্যাকবেঞ্চার’

৪৯ শতাংশ নম্বর থেকে UPSC-তে সাফল্য, পঞ্চম প্রচেষ্টায় সিভিল সার্ভিস ক্র্যাক করেন ‘ব্যাকবেঞ্চার’

 

নয়া দিল্লি: UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দূরন্ত সাফল্যের জন্য স্কুল বা কলেজের পরীক্ষায় যে দারুণ নম্বর পেতে হবে, এমন কখনওই নয়। আর উত্তর প্রদেশের উৎকর্ষ শ্রীবাস্তবের গল্প তারই প্রমাণ। স্কুল-কলেজে মাঝারি ফল, গ্র্যাজুয়েশনে মাত্র ৪৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। এরপরও তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ধাক্কাও। আর সব কিছু পার করেও উৎকর্ষ ক্র্যাক করেন ২০২৪ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় তাঁর অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক হয় ৪৯৮।

উৎকর্ষের শিক্ষাজীবনের শুরুটা ছিল সাধারণ। দশম শ্রেণিতে ৬২ শতাংশ এবং দ্বাদশে প্রায় ৭৪ শতাংশ নম্বর পান তিনি। গোরখপুরের দীনদয়াল উপাধ্যায় গোরখপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন তিনি। কলেজে ব্যাকলগ থাকায় অনেকেই তাঁকে ‘ব্যাকবেঞ্চার’ বলতেন। শেষ পর্যন্ত স্নাতকে তাঁর সামগ্রিক নম্বর দাঁড়ায় ৪৯ শতাংশে। তবে এই ফল তাঁকে থামাতে পারেনি।

হিন্দি মাধ্যমে পড়াশোনা করা উৎকর্ষ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সীমিত বইয়ের উপর গুরুত্ব দেন। ভারতীয় রাজনীতির জন্য এম. লক্ষ্মীকান্ত এবং বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তি মজবুত করতে NCERT-এর বই পড়েন। মুখস্থ করার পরিবর্তে বিষয় ও ধারণাগুলি বোঝার উপর জোর দিয়েছিলেন তিনি।

UPSC-তে সাফল্যের আগে একাধিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হন উৎকর্ষ। তাঁর দাবি অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার প্রিলিমসে পাঁচ-ছয়বার ব্যর্থ হন। এমনকি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জেল ওয়ার্ডেন নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষায় দৌড় শেষ করার ক্ষেত্রেও মাত্র সাত সেকেন্ডের জন্য পিছিয়ে পড়েন তিনি। সেই সময় একজন IPS আধিকারিককে দেখে তাঁর মনে UPSC-র মাধ্যমে বড় লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়।

ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় এসেছে। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও প্রস্তুতি থেকে সরে যাননি তিনি। পরিবারের সমর্থন এবং নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকার মানসিকতাই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

পঞ্চম প্রচেষ্টায় UPSC ২০২৪-এ সফল হয়ে ৪৯৮ র‍্যাঙ্ক পান করেন উৎকর্ষ। পরে তিনি IRS (Customs & Indirect Taxes) পরিষেবায় নিয়োগ পান। তাঁর যাত্রা দেখায়, ব্যর্থতা কিংবা কম নম্বর নয়, ধারাবাহিক চেষ্টা ও সঠিক প্রস্তুতিই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে।

(Feed Source: abplive.com)