Election Commission of India: দিল্লিতে কমিশনের বিরুদ্ধে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, ছাড়া পেলেন ২ ঘণ্টা পরে, বিবৃতি জারি করল ECI

Election Commission of India: দিল্লিতে কমিশনের বিরুদ্ধে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, ছাড়া পেলেন ২ ঘণ্টা পরে, বিবৃতি জারি করল ECI

বিরোধী সাংসদদের “অসম্মান” করার অভিযোগ তুলে গান্ধী নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাংসদদের সঙ্গে দেখা না করে নির্বাচন কমিশনাররা জনগণের কণ্ঠকে “অসম্মান” করেছেন।

আটক রাহুল গান্ধী

নয়াদিল্লি: এসআইআর নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ ঘিরে আজ দিনবর উত্তাল থাকল রাজধানী দিল্লি৷ বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হল বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ওয়ানাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে। কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করার ’ ঘণ্টা পরে মুক্তি দেওয়া হয়। রাহুলের সঙ্গে এদিন দেখা গিয়েছিল পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (পিপিসিসি) বিদায়ী প্রধান অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংকেও। দিল্লি পুলিশ অবশ্য আগেই ঘোষণা করেছিল যে আকাশবাণী ভবনে রাতভর অবস্থান ধর্মঘট চলতে দেওয়া হবে না। বিক্ষোভকারীরা ধরনাস্থল ত্যাগ না করায় চলে ধরপাকড়৷ এরপরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার আবেদন নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হল কমিশনের তরফে৷

কী জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন?আজ ৬ অক্টোবর, নির্বাচন কমিশনের দিকে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মিছিল চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কমিশন জানতে পারে যে কিছু সাংসদ প্রতিনিধিদল নিয়ে কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চান। তবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট চায়নি। এরপর বিকেল প্রায় ৪টের সময় দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে কমিশন জানতে পারে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে একদল সাংসদ কমিশনের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিতে চান।

কমিশন জানায়, ২০২৫ সালেই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী কোনও দল বা একাধিক দলের যৌথ প্রতিনিধিদলকে তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। এরপর উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়।কমিশনের বক্তব্য, বিকেল ৪টার পর যখন সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হচ্ছিল, তখন দিল্লি পুলিশের DCP জানান যে প্রায় ২৪০ জন সাংসদের সঙ্গে সংসদ ভবন অ্যানেক্সে বৈঠক করতে চাওয়া হয়েছে।

‘অস্বাভাবিক’: বিরোধী দলের বৈঠকের অনুরোধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনবিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজ বিকেল ৪টার পর, নির্বাচন কমিশন যখন মাননীয় সাংসদদের সঙ্গে উল্লিখিত বৈঠকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করছিল, তখন দিল্লি পুলিশের ডিসিপি কমিশনকে জানান যে, প্রস্তাবিত বৈঠকটি ২৪০ জন সাংসদের একটি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং এর প্রস্তাবিত স্থান হলো সংসদ ভবন অ্যানেক্স। নির্বাচন কমিশন এই অনুরোধটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে এবং তাই এটি গ্রহণ করতে পারেনি, কারণ নির্বাচন কমিশনের প্রোটোকল অনুযায়ী, এই ধরনের বৈঠক শুধুমাত্র ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রাঙ্গণেই অনুষ্ঠিত হয়।”

কমিশন এই প্রস্তাবকে “অস্বাভাবিক” বলে উল্লেখ করে এবং জানায়, ECI-র প্রোটোকল অনুযায়ী রাজনৈতিক দল/প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অফিসেই করা হয়৷ কমিশন বিকল্প প্রস্তাব দেয়—ECI-র সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ডিউটি অফিসারকে বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পাঠিয়ে সাংসদদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা যেতে পারে। কমিশনের দাবি, এটিও একটি “অভূতপূর্ব” পদক্ষেপ হত।কিন্তু সাংসদরা সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন।

কমিশন জানিয়েছে, তারা দেশের সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নিজেদের প্রোটোকল ও রীতিনীতি—দুটিকেই গুরুত্ব দেয়। ECI-র বক্তব্য, যে কোনও রাজনৈতিক দল যে কোনও সময় কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করতে পারে। কমিশন সময়ের সুবিধা অনুযায়ী বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে—এটাই নিয়মিত প্রক্রিয়া।

রাহুল গান্ধী যা বলেছিলেনদিনের শুরুতে, তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন যেন বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করে “ভোট চুরির” অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়। রাহুল বলেছিলেন, ‘‘…সাংসদরা নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করবেন; তাঁদের আমাদের সঙ্গে দেখা করতেই হবে…আমরা সবাই এখানে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে আছি…সাংসদদের অসম্মান করে তাঁরা জাতির কণ্ঠকে অসম্মান করেছেন; আমরা শুধু নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করতে চাই এবং তাঁদের বলতে চাই যে তাঁরা ভোট চুরি করেছেন…৷”

(Feed Source: news18.com)