
Nana Patekar: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোরে ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। কেরিয়ারে অসংখ্য অসামান্য কাজের পাশাপাশি সমাজসেবাতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন নানা।
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া। ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে গুরুতর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হলে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রখ্যাত লেখক রণবীর পুষ্পের এক স্মৃতিচারণে নানা পাটেকরের মানবিক দিকের এক বিরল ছবি ফুটে ওঠে। একবার একটি বিলাসবহুল দেড় কোটি টাকার গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন নানা পাটেকর। কিন্তু ঠিক সেই সময় সংবাদমাধ্যমে মহারাষ্ট্রের খরা পীড়িত কৃষকদের আত্মহত্যার দৃশ্য দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন নানা। তৎক্ষণাৎ গাড়ি কেনার ইচ্ছা বাতিল করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে দান করার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নানা পাটেকর ছিলেন ভীষণ সচেতন। রাস্তায় গাড়ি থেকে প্লাস্টিকের বোতল ফেলার মতো নাগরিক দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখলে তিনি গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ করতে পিছপা হতেন না। নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতি সকলের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রায়শই মানুষকে সঠিক পথে চলার শিক্ষা দিতেন। নিজের অর্জিত আয়ের বড় অংশ জনকল্যাণে দান করতেন। নিজের একক প্রচেষ্টা ও সমাজসেবী মানসিকতা থেকেই পরবর্তীতে তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার খরা পীড়িত কৃষক পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল।
১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করা বিশ্বনাথ পটেকর ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। অভিনয় দক্ষতা, স্বকীয় সংলাপ উপস্থাপন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী এক ব্যক্তিত্ব। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি ২০১৩ সালে ভারত সরকারের থেকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীরট ‘ওয়েলকাম’, ‘অপহরণ’ এবং ‘আব তক ছাপ্পান’-এর মতো অসংখ্য স্মরণীয় চলচ্চিত্র তিনি ভারতীয় সিনেমাকে উপহার দিয়েছেন।
অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি নিঃস্ব ও খরা পীড়িত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে যে মানবিকতার পরিচয় নানা পাটেকর দিয়ে গেছেন, তা রূপোলি পর্দার ইতিহাসে চিরকাল সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়াতে ভারতের সাংস্কৃতিক জগতে এক বিশাল ও অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
(Feed Source: news18.com)
