)
দুর্গাপুজোয় খাওয়া-দাওয়া আর কলকাতার ঐতিহ্য—দুইয়ের স্বাদ একসঙ্গে পেতে পারেন পঙ্কজ মল্লিকের ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে তৈরি ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি ক্যাফে’-তে। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি এখানে মিলবে চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল, মকটেল, কফি এবং পকেট-ফ্রেন্ডলি কম্বো মিল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় ঘোরাঘুরি, প্যান্ডেল দেখা আর সঙ্গে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। এই পুজোয় সেই পেটপুজোর তালিকায় যোগ হতে পারে এক নতুন ঠিকানা। দক্ষিণ কলকাতার সেবক বৈদ্য স্ট্রিটে, হাজরা রোডের কাছে পঙ্কজ মল্লিকের ঐতিহ্যবাহী বাড়ির একাংশে তৈরি হয়েছে ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’। এটি শুধু ক্যাফে নয়, একইসঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও। আর এবারের দুর্গাপুজো এই জায়গাটির প্রথম পুজো।
কিংবদন্তি সুরকার ও গায়ক পঙ্কজ মল্লিকের বালিগঞ্জের বাসভবনের একটি অংশে তৈরি এই জায়গায় খাবারের সঙ্গে মিলবে ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্বাদ। যে বাড়ির সঙ্গে বাংলা গান, সিনেমা এবং আকাশবাণীর দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, সেখানেই এখন আড্ডা ও খাওয়াদাওয়ার নতুন আয়োজন। বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আকাশবাণী কলকাতার এই বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান বহু বছর ধরে মহালয়ার সকালকে বাঙালির কাছে বিশেষ করে তুলেছে। পঙ্কজ মল্লিকের এই বাড়ির সঙ্গেও আকাশবাণী কলকাতার সেই সাংস্কৃতিক পরিসরের সম্পর্ক রয়েছে।

একসময় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সরাসরি সম্প্রচারিত হলেও এখন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে শোনা হয়। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ এবং অনুষ্ঠানের সুর-সংগীত ছাড়া বাঙালির পুজোর আবহ যেন অনেকটাই অসম্পূর্ণ।
কীভাবে শুরু ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’?
২০২৬ সালের ১১ মে, পঙ্কজ মল্লিকের জন্মদিনের ঠিক পরের দিন, আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন পঙ্কজ মল্লিকের দৌহিত্র রাজীব গুপ্ত এবং দৌহিত্রবধূ ঝিনুক গুপ্ত। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো আর্ট ডেকো শৈলীর বাড়িটিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এই সাংস্কৃতিক পরিসর। নামের মধ্যেও রয়েছে বিশেষ অর্থ। ‘লেজেন্ড’ শব্দটি পঙ্কজ মল্লিকের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। আর ‘লেগ্যাসি’ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে।
ক্যাফেতে কী কী খাবার পাওয়া যাবে?
খাবারের দিক থেকেও রয়েছে নানা আয়োজন। বাঙালিয়ানার স্বাদের পাশাপাশি ক্যাফের মেনুতে রয়েছে- চাইনিজ খাবার, কন্টিনেন্টাল পদ, বিভিন্ন ধরনের গরম ও ঠান্ডা পানীয় , মকটেল, কফি, পকেট-ফ্রেন্ডলি কম্বো মিল। পঙ্কজ মল্লিকের পছন্দের কিছু খাবারও মেনুতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এখানে শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, একজন কিংবদন্তি শিল্পীর পছন্দের খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
পুজোয় থাকছে বিশেষ কম্বো মিল
এবারই ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি ক্যাফে’-র প্রথম দুর্গাপুজো। তাই উৎসব উপলক্ষে খাবারের তালিকাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। পুজোর দিনগুলিতে যারা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবেন, তাঁদের জন্য সাশ্রয়ী দামের কম্বো মিল থাকছে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে। পুজোর ভিড়ে অনেক সময় ভালো জায়গায় বসে খাওয়ার পাশাপাশি বাজেটের কথাও মাথায় রাখতে হয়। সেই কথা মাথায় রেখেই পকেট-ফ্রেন্ডলি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু ক্যাফে নয়, ইতিহাসের সঙ্গে আড্ডার জায়গাও
‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’-র বিশেষত্ব শুধু খাবারে নয়। ক্যাফের অন্দরসজ্জাতেও রয়েছে পঙ্কজ মল্লিকের জীবন ও কাজের নানা স্মৃতি। এখানে রাখা হয়েছে তাঁর ব্যবহৃত অর্গান ও তানপুরা, বিভিন্ন রেকর্ডের কভার, আকাশবাণীর অনুষ্ঠানের স্মৃতি, চলচ্চিত্রের বুকলেট, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ছবি, তাঁকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন তথ্য এবং ভারতীয় ডাক বিভাগের প্রকাশিত ডাকটিকিট। বিভিন্ন পুরস্কারের ছবিও এখানে প্রদর্শিত হয়েছে। পঙ্কজ মল্লিকের গান শোনার ব্যবস্থাও রয়েছে। অর্থাৎ এক কাপ কফি বা খাবারের সঙ্গে এখানে উপভোগ করা যাবে বাংলা সংগীতের ইতিহাসের একটি অংশ।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও চলবে
২০০৫ সালে রাজীব গুপ্ত ও ঝিনুক গুপ্তের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পঙ্কজ মল্লিক মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফাউন্ডেশন-এর সহায়তায় এই কেন্দ্র সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধরনের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’কে শুধুমাত্র একটি রেস্তরাঁ বা ক্যাফে হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কলকাতার ঐতিহ্য, সংগীত, ইতিহাস, আড্ডা এবং খাবার—সবকিছুকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা রয়েছে এই উদ্যোগে।

পুজোয় কেন যেতে পারেন ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’-তে?
পুজোর সময়ে কলকাতায় নতুন কোনও জায়গা খুঁজছেন, অথচ শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, সঙ্গে একটু ইতিহাস ও সংস্কৃতিও উপভোগ করতে চান—তাহলে এই জায়গাটি আপনার তালিকায় রাখতে পারেন। পঙ্কজ মল্লিকের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির পরিবেশ, পুরনো কলকাতার আবহ, সাংস্কৃতিক স্মারক এবং নানা ধরনের খাবার—সব মিলিয়ে পুজোয় এটি হতে পারে অন্যরকম একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে যারা কলকাতার হেরিটেজ, পুরনো বাড়ি, বাংলা গান এবং খাবার—এই চারটি বিষয় একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাঁদের কাছে ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’ হয়ে উঠতে পারে পুজোর নতুন ঠিকানা।
(Feed Source: zeenews.com)
