)
CJP Protest in Delhi: আজ রাত ১০টা থেকেই মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট সেন্ট্রাল দিল্লিতে! ১০ অক্টোবরের সিজেপি বিক্ষোভ ঠেকাতে জনপথ থেকে ৪ কিমি ব্যাসার্ধে টানা ২৪ ঘণ্টা বন্ধ মোবাইল ডেটা। চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আজ রাত ১০টা থেকেই নিস্তব্ধ সেন্ট্রাল দিল্লি। ৪ কিমি জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, সিজেপি বিক্ষোভে নজিরবিহীন খাঁড়া রাজধানীতে।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি (CEC – Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা ‘সিজেপি’ (Cockroach Janta Party – CJP)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) ও দিল্লি পুলিস। ট্রেন বাতিল ও মেট্রো স্টেশনে কড়াকড়ির পর এবার ডিজিটাল সংযোগও কেটে দেওয়া হল। শুক্রবার রাত ১০টা থেকেই সেন্ট্রাল দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা (Mobile Internet Blackout)। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা চলবে এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট।
রাজধানীর বুকে কোনও রাজনৈতিক বা নাগরিক আন্দোলনকে ঘিরে এহেন নজিরবিহীন ইন্টারনেট স্থগিতাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে কার্যত বিরল।
ঠিক কোন কোন এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ?
দিল্লি পুলিসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জনপথ ও কর্তব্য পথ ক্রসিঙের কেন্দ্রবিন্দু (Epicentre) ধরে চারপাশের পুরো ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের (4 km radius) মধ্যে সব ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আওতাভুক্ত এলাকা: যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, সংসদ ভবন চত্বর, ইন্ডিয়া গেট, সচিবালয় এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী মধ্য দিল্লির প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক অঞ্চল।
টেলিকম সংস্থাদের কড়া নির্দেশ: কেন্দ্রীয় টেলিকম আইন (Telecommunications Act)-এর জরুরি ধারা প্রয়োগ করে এয়ারটেল (Airtel), জিও (Jio), ভোডাফোন-আইডিয়া (Vi) এবং এমটিএনএল (MTNL)-কে শুক্রবার রাত ১০টার আগেই সংযোগ কাটার সরকারি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
ব্রডব্যান্ডের কী হবে?
আপাতত কেবল মোবাইল ডেটা পরিষেবা বন্ধ থাকছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনকারীদের জমায়েতের ডাক ও লাইভ স্ট্রিমিং ঠেকাতেই এই ডিজিটাল দেওয়াল তোলা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
কেন এই চরম ডিজিটাল খাঁড়া?
দিল্লি পুলিসের দাবি, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে অতর্কিতে যন্তর মন্তর বা নির্বাচন কমিশন ভবনে ঢুকে পড়তে পারে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমন্বয় (Coordination) ভাঙতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
এর আগে কনট প্লেসের সমস্ত দোকান-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নয়ডা ও হরিয়ানা সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। তার ওপর ইন্টারনেট বন্ধের এই নির্দেশ কার্যভার নেওয়ার পর কার্যত দুর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হতে চলেছে সেন্ট্রাল দিল্লি।
ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা
হঠাৎ করে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কনট প্লেসের ব্যবসায়ী সমিতির প্রশ্ন– একটি আন্দোলনের জন্য গোটা মধ্য দিল্লির অর্থনৈতিক ও স্বাভাবিক জনজীবনকে কেন এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে?
অন্য দিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকারের এই পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ করে একে ‘ডিজিটাল জরুরি অবস্থা’ (Digital Emergency) বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে সরকার গোটা শহরকেই যেন গৃহবন্দি করার ফন্দি আঁটছে।
শনিবার সকালের আলো ফোটার আগেই সেন্ট্রাল দিল্লির রাজপথ কোন চেহারা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
(Feed Source: zeenews.com)
