‘আমি ও আমার বন্ধুরা বড়া পাও আবার চাই…’ শিশুকে তুকারাম মুন্ডের হৃদয়স্পর্শী জবাব ভাইরাল

‘আমি ও আমার বন্ধুরা বড়া পাও আবার চাই…’ শিশুকে তুকারাম মুন্ডের হৃদয়স্পর্শী জবাব ভাইরাল

 

তুকারাম মুন্ডের অধীনে FDA সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একটি কঠোর নির্দেশিকা কার্যকর করেছে। পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে স্কুলের ক্যান্টিনে এবং স্কুল চত্বরের ৫০ মিটারের মধ্যে বড়া পাও, সামোসা, বার্গারের মতো ডুবো তেলে ভাজা জাঙ্ক ফুড এবং কার্বনেটেড পানীয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই ছাত্রটি তাঁর কাছে এসে বলে, “স্কুলে বড়া পাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু আমি এবং আমার বন্ধুরা চাই, এটি আবার চালু হোক। এই বিষয়ে আপনার কী মতামত?” উত্তরে কমিশনার হেসে সহজ ভাষায় জাঙ্ক ফুড খাওয়ার বিপদগুলি বুঝিয়ে বলেন।

তিনি স্নেহের সঙ্গে শিশুটিকে বলেন, “আমরা বড়া পাও না খেলেও আমাদের জীবন থেমে থাকবে না। বরং, তোমরা যদি ভালো ও পুষ্টিকর খাবার খাও, তা হলে তোমাদের শারীরিক বৃদ্ধি আরও ভালো হবে।”

 

তিনি পড়ুয়াটিকে ডিপ ফ্রায়েড (ডুবো তেলে ভাজা) খাবার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর ব্যাখ্যা, এই ধরনের খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে। এর পরিবর্তে তিনি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার উপর জোর দেন। এরপর ওই ছাত্রটি যখন চিনা স্ট্রিট ফুড সম্পর্কে জানতে চায়, তখন তুকারাম তাতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কৃত্রিম রং এবং রাসায়নিকের বিষয়ে সতর্ক করেন। স্বাদের চেয়ে স্বাস্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এই কথোপকথনটি ভিডিওতে রেকর্ড করা হয় এবং দ্রুত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায়। শিশুটিকে ধৈর্য ধরে শিক্ষামূলক উপায়ে বোঝানোর জন্য অনেকেই IAS আধিকারিকের প্রশংসা করেছেন।

নির্দেশিকা:

তুকারাম মুন্ডে একটি নির্দেশিকা জারি করে স্কুলের ক্যান্টিনে এবং স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে বড়া পাও, সামোসা এবং অন্যান্য HFSS (অতিরিক্ত ফ্যাট, চিনি ও লবণযুক্ত) খাবার বিক্রি, বিজ্ঞাপন এবং বিতরণ নিষিদ্ধ করেছেন। খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন (Food Safety and Standards Act)-এর অধীনে কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI)-এর নিয়মাবলি কার্যকর করার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জাঙ্ক ফুডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। শৈশবকালীন স্থূলতার সমস্যা মোকাবিলা করতে পিৎজা, চিপস এবং সোডার মতো খাবারকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিক্ষা পর্ষদের অধীন স্কুল এবং সব ধরনের স্কুলের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি, নিষিদ্ধ খাবার বাজেয়াপ্ত করা এবং আইনি পদক্ষেপ করারও বিধান রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা বাইরের বিক্রেতাদের সম্পর্কে FDA-কে জানাতেও বলা হয়েছে।

স্কুলের ক্যান্টিনগুলিতে বড়া পাও, সামোসা এবং কোল্ড ড্রিঙ্কসের মতো খাবারের পরিবর্তে ইডলি, দোসা, পোহা, উপমা, টাটকা ফল এবং ঘোলের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের বাড়িতে তৈরি খাবার টিফিনে দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

(Feed Source: news18.com)