
Garbage Fish Tilapia: বাজারে অঢেল বিক্রি হয় এই মাছ। দাম কম দেখে অনেকেই কেনেন ব্যাগ ভরে। কিন্তু তেলাপিয়া খাওয়া কতটা নিরাপদ? আবর্জনা মাছ নামে পরিচিত তেলাপিয়া খাওয়া কতটা ক্ষতিকর, জানুন বিশেষজ্ঞের মত।
নামের মধ্যেই জড়িয়ে আছে ‘আবর্জনা’৷ ইংরেজিতে পোশাকি নাম ‘গারবেজ ফিশ’৷ কুলীন মাছের জগতে এদের ঠাঁই নেই৷ সেরকমই একটি মাছ ‘তেলাপিয়া’৷ এই প্রজাতির মাছ সাধারণত শৈবাল বা শ্যাওলা, কাদা বা তলদেশের আবর্জনা খায়। বেশির ভাগ গারবেজ ফিশ বা আবর্জনা মাছে অতিরিক্ত ছোট কাঁটা থাকা, তীব্র ‘কাদাটে’ বা আঁশটে গন্ধ, অথবা মাংস রান্না করা কঠিন হয়ে যায়। রন্ধনশিল্পীদেরও কাছে সমাদৃত নয় তেলাপিয়া৷
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এবং বিশ্বজুড়ে ভোজনবিলাসীরা তেলাপিয়াকে আবর্জনা মাছ বা গারবেজ ফিশ বলে থাকেন৷ তেলাপিয়া মাছ সাধারণত আবর্জনার মাছ বা ময়লার মাছ নামে পরিচিত, প্রথমত কারণ এটি শৈবাল এবং বিভিন্ন ধরণের খাবার খেয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, এর সুলভ মূল্য এবং সহজলভ্যতার কারণে। সঠিকভাবে চাষ করা তেলাপিয়া খাওয়ার জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হয়, কিন্তু এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে দেখা গেছে যে মাছটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিপালিত হয়েছে এবং এটি মুরগির বর্জ্য ও মল-ও খেয়েছে। বলছেন ডায়েটিশিয়ান তথা পুষ্টিবিদ অ্যামি রিখটার এবং জার্লিন জোন্স৷
তেলাপিয়াকে ‘আবর্জনা মাছ’ বলার প্রধান কারণ হল এর প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস এবং চাষের পরিবেশ। সঠিকভাবে চাষ করা তেলাপিয়া মাছকে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য সয়াবিন এবং ভুট্টার গুঁড়ো খাওয়ানো হয়। কিন্তু, সঠিক ও স্বাস্থ্যসম্মত চাষ পদ্ধতির অভাবে এই মাছ শৈবাল, পোকামাকড় এবং এমনকি মলও খেয়ে থাকে। এ কারণেই বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, বন্য এবং অস্বাস্থ্যকর পুকুর বা খামার থেকে আহরিত এই মাছ খাওয়া নিরাপদ নয়।
খামারে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চাষ করা তেলাপিয়া শুধু পরিষ্কারই নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারী, কারণ এটি প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন ডি-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর মতে, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং ২ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের জন্য তেলাপিয়া অন্যতম সেরা মাছের একটি। এর প্রধান কারণ হল এতে পারদ এবং দূষক পদার্থের পরিমাণ কম থাকে।
এই মাছের উপকারিতা পুরোপুরি উপভোগ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল বিশ্বস্ত উৎস বা পরিচ্ছন্ন খামার থেকে এটি কেনা। এছাড়া, মাছটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে হালকা গরম জলে লবণ ও হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখলে তা যে জীবাণু বা রোগজীবাণুমুক্ত, তা নিশ্চিত করা যায়। এই মাছ গ্রিল, প্যান ফ্রাই বা বেক করা যেতে পারে, তবে খাওয়ার আগে ভালোভাবে রান্না করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
(Feed Source: news18.com)
