৭ কোটি পাকিস্তানিদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নেই এবং সেনাবাহিনীর ব্যয় ১০ বিলিয়ন ডলার।

৭ কোটি পাকিস্তানিদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নেই এবং সেনাবাহিনীর ব্যয় ১০ বিলিয়ন ডলার।

 

পাকিস্তান সরকার আবারও গুরুতর প্রশ্নের মুখে। একদিকে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার সমস্যায় ভুগছে, অন্যদিকে সেনাবাহিনীর ওপর সরকার ব্যয় বাড়িয়েছে রেকর্ড মাত্রায়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বিশ্বব্যাংক ও পাকিস্তানের বাজেট নথি থেকে প্রকাশিত পরিসংখ্যান এই দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করছে।

পাকিস্তানের অবস্থা এমন যে কোটি কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পারছে না, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের জনসংখ্যার 38.3 শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের কবলে রয়েছে। এর অর্থ কেবল আয়ের অভাব নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি, পুষ্টি এবং অন্যান্য মৌলিক দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সীমিত প্রবেশাধিকার। প্রতিবেদনে দেখা গেছে প্রায় ৭ কোটি পাকিস্তানি নাগরিক এমন পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন যেখানে তাদের মৌলিক চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না।

পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলের অবস্থা খারাপের চেয়ে খারাপ।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪৮ শতাংশ শুধু পাকিস্তানেই বাস করে তা থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুমান করা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পাকিস্তানে চরম দারিদ্র্যের পরিস্থিতি বহুগুণ বেশি গুরুতর। গ্রামীণ এলাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলা হয়, যেখানে দারিদ্র্যের মাত্রা শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই উদ্বেগজনক সামাজিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে, পাকিস্তান সরকার 2026-27 আর্থিক বছরের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে 10.86 বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় 3 ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি করেছে। গত বছরের তুলনায় এটি 17.65 শতাংশ বেশি। বাজেট নথি অনুযায়ী, মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বাজেট ছাড়াও, সামরিক পেনশনের উপর প্রায় 822 বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (প্রায় 2.96 বিলিয়ন ডলার) অতিরিক্ত বোঝা রয়েছে, যা একটি পৃথক আইটেম হিসাবে দেখানো হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এতে সেনাবাহিনীর ওপর প্রকৃত সরকারি ব্যয় সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি।

সেনাবাহিনীর পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে

মজার বিষয় হল, পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) কর্মসূচি ও শর্তাবলীর অধীনে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। রাজস্ব ঘাটতি কমাতে উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বিনিয়োগের ওপর চাপ বাড়লেও প্রতিরক্ষা ব্যয়ে দৃশ্যমান কোনো হ্রাস নেই। এ কারণে সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো দেশের নিরাপত্তা শুধু অস্ত্র ও সামরিক শক্তি দ্বারা নির্ধারিত হয় না। একটি বিশাল জনগোষ্ঠী যখন খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়, তখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিজেই একটি বড় নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়। একই চ্যালেঞ্জ এখন পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও কল্যাণে ব্যয় করার প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে, কিন্তু সরকারি সম্পদের একটি বড় অংশ প্রতিরক্ষা খাতে যাচ্ছে।

(Feed Source: ndtv.com)