সিজেপি-র তিন নেতার গ্রেফতারির খবর সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দলের লিগ্যাল হেড রত্না সিং। আইনি সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা রত্না প্রায় পাঁচ বছর সাংবাদিকতায় কাটিয়ে আইন পেশায় যোগ দেন এবং বর্তমানে হাই কোর্টে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস করছেন।
সিজেপির মহিলা নেতৃত্বে রত্না
নয়াদিল্লিঃ বুধবার রাতে সিজেপি-র তিন নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্ডেকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সেই খবর সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনেন দলের লিগ্যাল হেড রত্না সিং। তিন নেতার গ্রেফতারি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার পর থেকেই চর্চায় উঠে এসেছেন রত্না। দলের পুরুষ নেতাদের পাশাপাশি প্রতিবাদের ময়দানে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নজর কেড়েছে অনেকের। কে এই রত্না সিং, যাঁকে ঘিরে এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে?
কে এই রত্না সিং?
রত্না সিং গুরু গোবিন্দ সিং ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজের আইন বিভাগের স্নাতক। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আইনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রকাশনায় আইনি সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। প্রায় পাঁচ বছর সাংবাদিকতায় কাটানোর পর আইন পেশায় যোগ দেন রত্না। বর্তমানে হাই কোর্টে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস করছেন। সিজেপিতে তিনি দলের আইনি বিষয়গুলি দেখভাল করেন।
১০ অক্টোবর, ২০২৬- রত্নার আটক, তারপর গ্রেফতারি ঘিরে বিতর্ক
সিজেপির অভিযোগ, শনিবার দলের লিগ্যাল হেড রত্না সিং-সহ চার আইনজীবীকে আটক করে পুলিশ। দলের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, একটি গাড়ির ভিতরে বসে রয়েছেন রত্না। তাঁর দাবি, গাড়ির চারপাশে অন্তত ২৫ জন পুলিশকর্মী ছিলেন। আটকের কারণও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করে দল।
ভিডিয়োয় রত্নাকে বলতে শোনা যায়, সকালে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ কোনও সরকারি নোটিস দেখাতে পারেনি। বরং উপরমহলের নির্দেশ রয়েছে বলে তাঁকে আটক করার কথা জানানো হয়েছিল। রত্নার দাবি, তাঁকে বার বার গাড়ি থেকে নামতে বলা হচ্ছিল এবং বাড়িতেই আটক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি এই ঘটনাকে বেআইনি আটক বলেও অভিযোগ করেন।
সিজেপি-র মহিলা নেতৃত্ব
সিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত আরও এক উল্লেখযোগ্য মহিলা মুখ আফরিন নওয়াজ। এমবিএ উত্তীর্ণ আফরিন একজন অন্ট্রাপ্রেনিউর এবং গণআন্দোলনের কর্মী। দলের জনসংযোগমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে তাঁর। জনসাধারণের কাছে দলের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে সিজেপি-র অন্যতম পরিচিত মহিলা সদস্য তিনি।
অন্য দিকে, সিজেপি-র গবেষণা ও নীতি নির্ধারণ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন বৈষ্ণবী গৌর। তিনি জননীতি বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দেরাদুনের ডুন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনার পরে চণ্ডীগড়ের পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন বৈষ্ণবী। তিনি মুখার্জি ফেলোও। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে কাজ করার জন্য তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
(Feed Source: news18.com)