রোহিত-কোহলিদের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর উঠেছিল সমালোচনার ঝড়, এই প্রথম মুখ খুললেন শামি

রোহিত-কোহলিদের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর উঠেছিল সমালোচনার ঝড়, এই প্রথম মুখ খুললেন শামি

 

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: দেখতে দেখতে প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সেই অভিশপ্ত রাত এখনও ভুলতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি, বারবার ঘুরে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতির কথা বলে থাকেন। এবার সেই ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন টিম ইন্ডিয়ার পেসার মহম্মদ শামি। ইঙ্গিত দিলেন, ফাইনালে পিচ বাছাইয়ে গলদ ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের।

২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে দুরন্ত ছন্দে ছিল ভারত। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছিল ভারতীয় দলকে। পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজ়িল্যান্ডের মতো হেভিওয়েট দলকে রীতিমতো ঘোল খাইয়ে ছাড়ে ভারত। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও ফেভারিট হিসাবেই নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। ১৯ নভেম্বর, আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। যে ম্যাচে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। ২৪০ রানে অল আউট হয়ে যায় ভারত। জবাবে ট্র্যাভিস হেডের তাণ্ডবে ৪৩ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যপূরণ অস্ট্রেলিয়ার। ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া।

সেই ম্যাচের পর থেকে জোর বিতর্ক হয় আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে বিপদে ফেলতে শুকনো, ধুলো ওড়া পিচে ম্যাচ খেলার কৌশল নেয় ভারত। কিন্তু সেই পিচই বুম্যেরাং হয়ে দাঁড়ায় ভারতের কাছে। এমন পিচে খেলা হয়, যেখানে স্ট্রোক খেলতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন ব্যাটাররা। যার খেসারত দিতে হয় ভারতকে।

সেই ফাইনালে হারের যন্ত্রণা এখনও কুড়ে কুড়ে খায় শামিকেও। এখনও জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন শামি। নিজেকে ভারতীয় দলে ফেরার দৌড়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলছেন ডানহাতি পেসার। কল্যণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার ফাঁকেই শামি ডুব দিয়েছিলেন তিন বছর আগে বিশ্বকাপের আড্ডায়।

ফাইনালের উইকেট বাছা নিয়ে এত বিতর্ক, কোথাও কি স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে ভুল হয়েছিল? শামি বলছিলেন, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, লাল মাটির পিচে এই ধরনের ম্য়াচ খেলা উচিত। যেখানে বল পড়ে দ্রুত গতিতে ব্যাটে আসবে। স্ট্রোক খেলা সহজ হবে। তাতে করুক না প্রতিপক্ষ দল কত রান তুলবে। সাড়ে তিনশো তুললে আমরাও তা পাল্টা তুলে দিতে পারি।’

উত্তর প্রদেশের সহসপুরে নিজের ফার্মহাউসে প্র্যাক্টিসের দুর্দান্ত ব্যবস্থা করেছেন শামি। বলছিলেন, ‘৬টি পিচ বানিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে ঘাস এনে বসিয়েছি। সবুজ পিচে প্র্যাক্টিসের ব্যবস্থা রয়েছে। আমি ফার্মহাউসে থাকলে বাচ্চা ছেলেরা প্র্যাক্টিস করতে আসে।’ ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে শামি বলছিলেন, ‘ওখানে এবার ভীষণ বৃষ্টি হয়েছে। তবে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ সিস্টেম দারুণভাবে বানিয়েছি। বৃষ্টি থামার ৩০ মিনিটের মধ্যে মাটি শুকিয়ে যায়।’

শামি জানালেন, সহসপুরে ১৪ একর জমির ওপর আরও একটি ফার্মহাউস বানাচ্ছেন তিনি।

(Feed Source: abplive.com)