)
হাইজ্যাকের সংকেত মেলায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান জয়পুরে ইর্মাজেন্সি ল্যান্ডিং করেছে। বিমানটি ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লি যাচ্ছিল। পাইলট কয়েক সেকেন্ডের জন্য ‘স্কোয়ক-৭৫০০’ কোড পাঠান। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি জয়পুরে নিরাপদে নামে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের আকাশপথে আতঙ্ক। হাইজ্যাক সংকেত পেতেই জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের। বাতিল রিয়াধের একাধিক উড়ানও। ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান থেকে হাইজ্যাক সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। বুধবার সকালে ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। আমদাবাদ এটিসি-তে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ‘স্কোয়ক-৭৫০০’ সংকেত পৌঁছতেই তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তাবাহিনীকে সতর্ক করা হয়। এর জেরে তড়িঘড়ি গতিপথ বদলে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রাজস্থানের জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইর্মাজেন্সি ল্যান্ডিং করে ‘এআই-২০৩০’ বিমানটি। তবে বড়সড় বিপদ এড়িয়ে বিমানটি সেখানে নিরাপদে নেমেছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, বিমানটির পাইলট কিছু মুহূর্তের জন্য ‘স্কোয়ক-৭৫০০’ কোডটি পাঠিয়েছিলেন। বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক পরিভাষায় এটি একটি বিশেষ ট্রান্সপন্ডার কোড। শূন্য থেকে সাত পর্যন্ত সংখ্যার সমন্বয়ে তৈরি এই চার অঙ্কের কোডটি এটিসি সিস্টেমে বিমানের পরিচয় স্পষ্ট করে। বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ, অপহরণ বা জোরপূর্বক দখল নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেই পাইলটরা এই নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করেন। তবে এই বিমানটিতে ঠিক কী কারণে ওই সংকেত পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
জয়পুরে অবতরণের পর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বিমানটিকে সরাসরি আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমান চলাচলের সুরক্ষাবিধি অনুযায়ী, কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট বিমানটিকে সাধারণ টার্মিনাল ও অন্য বিমানগুলি থেকে আলাদা রাখতে আইসোলেশন বে ব্যবহার করা হয়। সেখানে নিরাপদে রেখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আধিকারিকরা সেটিতে তল্লাশি ও পরীক্ষা চালাচ্ছেন।
এদিকে সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে রিয়াধগামী একাধিক উড়ান বাতিলের মেয়াদ বাড়াল এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ অক্টোবর অবধি উড়ান বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু শনিবার আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ১৪ অক্টোবর এবং এয়ার ইন্ডিয়া ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের রিয়াধের সমস্ত উড়ান বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বাতিল হওয়া বিমানের যাত্রীদের টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস যাত্রীদের টিকিট রিশিডিউল বা পুনর্বিন্যাসের সুযোগও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছে। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ভারতের চারটি শহর- বেঙ্গালুরু, কোচি, কান্নুর এবং কোঝিকোড় থেকে সপ্তাহে মোট ১৬টি উড়ান চালায় রিয়াধে। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি ও মুম্বই থেকে রিয়াধে সপ্তাহে ৭টি বিমান পরিচালনা করে। এছাড়া অপর বিমান সংস্থা ‘আকাশা এয়ার’-ও শুক্রবার জানিয়েছিল, তারা ১১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াধগামী সমস্ত পরিষেবা বাতিল রাখছে।
(Feed Source: zeenews.com)
