)
Durga Puja 2026: বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হল অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়। এই বিজয়া দশমীর অন্যতম আচার সিঁদুরখেলা। দেবী বরণের পরই শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত সিঁদুরখেলা। বিজয়া দশমী যেন বিষাদ ও আগামীর আশার এক অদ্ভূত মেলবন্ধন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দঘন দিনগুলো যেন চোখের নিমেষেই পার হয়ে যায়। ষষ্ঠীর বোধন থেকে শুরু করে নবমীর আরতি—আলোর রোশনাই ও ঢাকের বাদ্যিতে মেতে ওঠে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। অবশেষে আসে সেই আবেগঘন দিন, বিজয়া দশমী। এটি কেবল পাঁচ দিনের উৎসবের সমাপ্তি নয়, বরং উমা অর্থাৎ ঘরের মেয়েকে অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানানোর এক বিষাদময় মুহূর্ত। এবার বিজয়া দশমী পড়েছে ২১ অক্টোবর, বুধবার। সেদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী আনন্দ উৎসবের।
বিজয়া দশমীর গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হল অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, এই দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে মর্ত্যলোককে পাপমুক্ত করেছিলেন। তবে বাঙালি সংস্কৃতিতে এই পর্বটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক আবেগ। বিশ্বাস করা হয়, দেবী দুর্গা তাঁর সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে মর্ত্যে নিজের বাপের বাড়িতে কাটাতে আসেন। চার দিন বাপের বাড়িতে কাটানোর পর দশমীর দিন তিনি আবার কৈলাসে পতিগৃহে ফিরে যান। তাই এই দিনটিতে যেমন অসুরবধের আনন্দ রয়েছে, তেমনই রয়েছে ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর বিষাদ।
দেবী বরণ ও সিঁদুর খেলা
বিজয়া দশমীর সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় দেবী বরণ ও বিদায় আরতি। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে সধবারা সেদিন দেবীকে বরণ করে নেন। দেবী দুর্গার কপালে ও চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে, মুখে পান-মিষ্টি দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করা হয়। দেবীর কাছে পরিবারের কল্যাণ, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়। দেবী বরণের পরই শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত সিঁদুরখেলা। একে অপরের গালে ও সিঁথিতে সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলেন। ঢাকের বাদ্যি আর ধুনুচির ধোঁয়ার মাঝে মণ্ডপে মণ্ডপে তৈরি হয় এক আনন্দমুখর মুহূর্ত।
প্রতিমা বিসর্জনেই ‘আসছে বছর আবার হবে’ সুর
বরণ ও সিঁদুর খেলা শেষে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের তোড়জোড়। সারা বাংলা জুড়ে বের হয় বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা। গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের সময় বিষাদ সুরের মধ্য়েই “বল দুর্গা মাই কি জয়” ও “আসছে বছর আবার হবে”-তে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। শুরু হয়ে যায় আবার পরের বছরের দেবীর আগমনের প্রতীক্ষা।
শুভ বিজয়া- কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ
বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। ছোটরা বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়। আর সমবয়সীদের সঙ্গে চলে কোলাকুলি ও প্রীতি-শুভেচ্ছা বিনিময়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলে বিজয়ার প্রণামের পালা। সন্দেশ থেকে মিষ্টি দই, নানা সুস্বাদু খাবারে চলে মিষ্টিমুখের পালা।
বিজয়া দশমী যেন বিষাদ ও আগামীর আশার এক অদ্ভূত মেলবন্ধন। চোখের জলে একদিকে দেবীকে বিদায় জানানো, আবার আরেকদিকে একইসঙ্গে আগামীর অপেক্ষা। মা আবার আসবেন, আবার তাঁর আগমনে আনন্দ ও আলোয় ভরে উঠবে চারপাশ- এই প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হয় দীর্ঘ এক বছরের প্রতীক্ষা।
(Feed Source: zeenews.com)
