
কৃতিকা খুব সাধারণ এক পরিবারে জন্মেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ে হওয়ার কারণে জন্মের পর থেকেই তাঁর বাবা তাঁকে মেনে নিতে পারেননি। স্কুলে একাধিক মেডেল ও সার্টিফিকেট পেলেও বাবার কাছ থেকে কখনও প্রশংসা পাননি তিনি। এমনকি পরে তাঁর বাবা তাঁকে ছেড়েও চলে যান।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর কৃতিকা ও তাঁর মাকে সামাজিক অবহেলার মুখে পড়তে হয়। স্কুলে সহপাঠীরা তাঁর পাশে বসতে চাইত না। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁর মাকে নানা কটাক্ষ করতেন। এই পরিস্থিতি থেকেই মায়ের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার সংকল্প আরও দৃঢ় হয় কৃতিকার।
চতুর্থ শ্রেণিতে অঙ্কে ৯৯ নম্বর পাওয়ার পর প্রথমবার সহপাঠীদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন কৃতিকা। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছিল, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সমাজে স্বীকৃতি অর্জন করা সম্ভব। পরবর্তী সময়ে তিনি UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেন।
প্রস্তুতি ভালো হওয়া সত্ত্বেও চারবার UPSC-র চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করতে পারেননি তিনি। এক রাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পর ‘রোসেনথাল এফেক্ট’ বা ‘পিগম্যালিয়ন এফেক্ট’ সম্পর্কে জানতে পারেন। ‘পিগম্যালিয়ন এফেক্ট’ বলে, নিজের সম্পর্কে উচ্চ প্রত্যাশা বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে তা পারফরম্যান্স বা আচরণকে সত্যিই প্রভাবিত করে ও আরও ভাল করে তোলে।
কৃতিকার দাবি অনুযায়ী, প্রস্তুতির বই, নোট ও কৌশল একই রেখে নিজের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনেন তিনি। তার পরেই ২০১৮ সালের UPSC পরীক্ষায় ১৯৪তম এবং ২০১৯ সালে ১০০তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন। বর্তমানে IRS আধিকারিক হিসেবে তাঁর সাফল্যের কাহিনি মনে করিয়ে দেয়—ব্যর্থতা শেষ কথা নয়; আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
(Feed Source: abplive.com)
