ডায়াবেটিসে প্রতিদিন কতটা চিনি খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন জানুন

ডায়াবেটিসে প্রতিদিন কতটা চিনি খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন জানুন

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অধিকাংশ মানুষের প্রথম প্রশ্ন হয়, “এখন কি আমাকে সম্পূর্ণভাবে চিনি খাওয়া বন্ধ করতে হবে?” এর উত্তর সরলভাবে হ্যাঁ বা না নয়। ডায়াবেটিস থাকলে চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবসময় জরুরি নয়, তবে কতটা এবং কী ধরনের চিনি খাওয়া হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, প্রতিদিনের মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম অংশ অতিরিক্ত (Added) চিনি থেকে আসা উচিত। আরও ভালো স্বাস্থ্যের জন্য এটিকে ৫ শতাংশের নিচে, অর্থাৎ প্রায় ২৫ গ্রাম বা ৬ চা চামচ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, ওষুধ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অনুযায়ী এই পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

Gyaan by Ganesh – Making India Win Over Diabetes- হল আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে পার্টনারশিপে সান ফার্মা কর্তৃক নেওয়া এক সচেতনতামূলক উদ্যোগ। মূল উদ্দেশ্য হল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে ভারতীয়দের ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, এটিকে আটকানো।

Sugar In Diabetes
Photo Credit: Sun Pharma

সংযোজিত চিনি বনাম প্রাকৃতিক চিনি

সব ধরনের চিনি এক নয়। ফল, দুধ এবং সাধারণ দইয়ে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা আঁশ (ফাইবার), প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের সঙ্গেও আসে, ফলে এগুলো তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর পছন্দ। অন্যদিকে, মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, ডেজার্ট, বিস্কুট এবং প্যাকেটজাত খাবারে থাকা সংযোজিত চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে এবং তাই এগুলো সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

ভারতীয়দের খাদ্যাভ্যাসে লুকানো চিনির উৎস

ভারতীয়দের অনেক খাদ্যাভ্যাসে স্পষ্ট মিষ্টি খাবারের বাইরেও চিনির লুকানো উৎস থাকে। চিনি মেশানো চা ও কফি, প্যাকেটজাত ফলের জুস, স্বাদযুক্ত দই, সকালের নাশতার সিরিয়াল, সস, বেকারি পণ্য এবং উৎসবের মিষ্টান্ন দ্রুত দৈনিক চিনি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। পুষ্টিগুণের লেবেল পড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়া অপ্রয়োজনীয় চিনি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় খাওয়াদাওয়া: কীভাবে ভারসাম্য রাখবেন

ডায়াবেটিস বা স্থূলতা থাকলেই আম, ভাত কিংবা মিষ্টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হবে-এমন নয়। শুধু চিনি বা কোনও একটি খাবারকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। সারাদিনে সব মিলিয়ে কতটা কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি খাচ্ছেন, একবারে কতটা খাচ্ছেন, আর খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য থাকছে কি না-এসবই বেশি জরুরি।
আম বা মিষ্টির মতো খাবার খেতে চাইলে অল্প পরিমাণে খান। খালি পেটে না খেয়ে, বরং প্রোটিন ও যথেষ্ট ফাইবার আছে এমন খাবার খাওয়ার পরে খাওয়াই ভালো। যেমন, মূল খাবারে ডাল, মাছ, ডিম বা অন্য কোনও প্রোটিনের উৎসের সঙ্গে শাকসবজি রাখুন, তারপর চাইলে অল্প আম বা মিষ্টি খান।

পরিশোধিত শর্করা (রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট) ও যেসব খাবার খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে, সেগুলো সীমিত মাত্রায় খান। সম্ভব হলে তার বদলে কম পরিশোধিত, বেশি ফাইবার যুক্ত খাবার বেছে নিন। চেষ্টা করুন খাবার যেন সুষম ও পুষ্টিকর হয়। সুযোগ থাকলে বাড়িতে রান্না করা খাবার খান।

দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটালে চেষ্টা করুন মাঝে মাঝে উঠে হেঁটে স্টেপ কাউন্ট বাড়ান। পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও করুন। পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি, যেসব কাজ করতে ভালো লাগে, মন ভালো থাকে এবং দুশ্চিন্তা কমে, সেগুলোর জন্যও সময় রাখুন।

তাই কোনও খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে, পরিমাণ বুঝে খাওয়া আর নিয়মিত ভালো অভ্যাস বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Dr. Supratik Bhattacharyya, Senior Endocrinologist and Diabetologist, Kolkata

Dr Suptarik
Photo Credit: Sun Pharma

চিনি কমানোর সহজ উপায়

কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলুন।
মিষ্টির পরিবর্তে তাজা ফল খান।
খাবারের নিউট্রিশন লেবেল পড়ে অতিরিক্ত চিনির পরিমাণ দেখুন।
কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার রাখুন।
উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানে সীমিত পরিমাণে মিষ্টি খান।

ডায়াবেটিস মানেই জীবনের সব মিষ্টি আনন্দ থেকে দূরে থাকা নয়। পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি। নিজের জন্য উপযুক্ত খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করতে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। SPI-IN-CVD-ZT—08-20260302

ডিসক্লেমার: এই তথ্য শুধুমাত্র রোগীদের সচেতনতা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শের বিকল্প নয়। সান ফার্মাসিউটিক্যালস ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড (SPLL) সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে এর সম্পূর্ণ নির্ভুলতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সান ফার্মাসিউটিক্যালস ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড (SPLL)-এর পূর্বানুমতি ছাড়া এই তথ্যের কোনও অংশ কোনওভাবে পুনর্মুদ্রণ, সংরক্ষণ বা প্রচার করা যাবে না।

(Feed Source: oneindia.com)