
শনিবার মুম্বই থেকে হাওড়া আসছিল ১২৮৫৯ গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের ভাটপাড়ার বাসিন্দা বিনোদ পাসোয়ান ট্রেনে ওঠেন। ক্যান্সার রোগী বিনোদ মুম্বইয়ের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১২ ঘণ্টা দেরিতে চলছিল ট্রেনটি।
সেই অবস্থায় ট্রেনেই মারা যান বিনোদ। যাত্রীরা জানিয়েছেন, M2 কামরায় সওয়ার ছিলেন তিনি। শনিবার সকালে ট্রেনের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। সকাল ৮টা নাগাদ টিকিট এগজামিনারকে জানানো হয় বিষয়টি। তিনি জানান, ডাক্তারি পরীক্ষা হবে। মৃত বলে নিশ্চিত হতে হবে আগে।
কিন্তু এর পর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও রেলের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তাঁরা জানিয়েছেন, ট্রেনের মধ্যে একই অবস্থায় পড়েছিল বিনোদের দেহ। মৃতদেহের সঙ্গেই যাত্রা করতে হয় সকলকে।
এর পর যাত্রীদের তরফে চাপ বাড়ানো হয়। অবিলম্বে চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মী ডেকে দেহ সরাতে বলেন তাঁরা। তাতেও কিছু না হওয়ায়, সন্ধে ৭টা নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি তোলেন এক যাত্রী। সরাসরি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ট্যাগ করা হয়। ‘রেল মদদ’-কেও জানানো হয় বিষয়টি।
রাত ৮টা বেজে ৩০ মিনিটে ট্রেনটি টাটানগর স্টেশনে পৌঁছয়। তার পই বিনোদের দেহ ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা বিনোদের মৃতদেহের সঙ্গে যাত্রা করতে হয় যাত্রীদের।
যদিও চক্রধরপুর রেল ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার আদিত্য চৌধরি জানিয়েছেন, সন্ধে ৭টা বেজে ৪৫ মিনিটে তাঁদের কাছে খবর আসে। একজন সংজ্ঞা হারিয়েছেন বলে জানতে পারেন। টাটানগরে ট্রেন পৌঁছনোর পরই দেহ নামিয়ে আনা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে যাত্রীরা একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। ১২ ঘণ্টা দেরিতে ট্রেন চলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যেমন, তেমনই অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, শৌচাগারে ঢোকা যাচ্ছিল না। খাবার এবং জল নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা কুণাল সারঙ্গিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
