Uttam Kumar Laxmi Pujo: উত্তম-সুপ্রিয়ার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোতে এক সুন্দরীকে নিয়ে হইহই কাণ্ড! মহানায়কের কাছে কী চেয়েছিলেন মেয়েটি?

Uttam Kumar Laxmi Pujo: উত্তম-সুপ্রিয়ার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোতে এক সুন্দরীকে নিয়ে হইহই কাণ্ড! মহানায়কের কাছে কী চেয়েছিলেন মেয়েটি?

এক কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে উত্তম কুমারের বাড়িতে যা ঘটেছিল, তা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়!

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাত। চারদিকে উৎসবের আবহ, অতিথিদের ভিড়, গান-বাজনা আর ভোগের আয়োজন। কলকাতার ময়রা স্ট্রিটের ফ্ল্যাটে তখন জমজমাট আসর। বাড়ির কর্তা মহানায়ক উত্তম কুমার, পাশে স্ত্রী সুপ্রিয়া দেবী। এমনই এক লক্ষ্মীপুজোর রাতে তাঁদের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন এক অপরূপা সুন্দরী যুবতী। দামি বেনারসি, গা-ভর্তি সোনা-হিরের গয়না, সঙ্গে গাড়ি ও চালক। তাঁকে দেখে কারও মনে সন্দেহ জাগেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মহিলার এক অদ্ভুত দাবি শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন স্বয়ং মহানায়ক! কী ঘটেছিল সেদিন?

উত্তম কুমার মানেই বাঙালির আবেগ। পর্দায় তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর মোহময় উপস্থিতি কয়েক প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। কিন্তু পর্দার বাইরেও মহানায়ককে ঘিরে ছিল অসংখ্য মানুষের উন্মাদনা। তাঁকে একবার চোখের দেখা দেখতে, তাঁর কাছাকাছি যেতে ভক্তরা অপেক্ষা করতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবীর দাম্পত্যজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ময়রা স্ট্রিটের বিশাল ফ্ল্যাটের লক্ষ্মীপুজো। প্রচলিত পারিবারিক স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুজোর দিন বাড়িতে চলত বিশাল আয়োজন। দেবীর পুজো, নিরামিষ ভোগ, অতিথি আপ্যায়ন এবং রাতভর গান-বাজনা— সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজ থাকত তুঙ্গে। পুজোর কাজে উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবী দু’জনেই নিজেদের মতো করে ব্যস্ত থাকতেন। মহানায়ক নিজে পুজোয় বসতেন, আর অতিথিদের আপ্যায়নে সুপ্রিয়া দেবীও ছিলেন সমান তৎপর।

এমনই এক পুজোর রাতে ঘটেছিল সেই অদ্ভুত ঘটনা, যার কথা পরবর্তীকালে স্মৃতিচারণে তুলে ধরেছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, এক বর্ধিষ্ণু পরিবারের যুবতী বউ সেদিন দামি বেনারসি ও মূল্যবান গয়না পরে গাড়ি-চালককে সঙ্গে নিয়ে উত্তম-সুপ্রিয়ার বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। তাঁর সাজপোশাক ও ব্যক্তিত্ব দেখে অন্য অতিথিদের মতোই তাঁকেও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়। কেউ সন্দেহ করেননি, তাঁর আসার পিছনে রয়েছে অন্য উদ্দেশ্য। মহিলাটি পুজোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অতিথিদের সঙ্গে মিশে ছিলেন। অন্যদের সঙ্গে বসে ভোগও খেয়েছিলেন। কিন্তু এরপরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারকে একান্তে ডেকে নিজের মনের কথা জানান।

কী ছিল সেই মহিলার দাবি? স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, তিনি উত্তম কুমারকে জানিয়েছিলেন, জ্যোতিষীর পরামর্শ নিয়ে বিশেষ তিথি ও নক্ষত্রের হিসেব কষেই তিনি সেদিন মহানায়কের বাড়িতে এসেছেন। তাঁর বিশ্বাস, কোজাগরী পূর্ণিমার এই পুণ্য রাতে তিনি উত্তম কুমারের সন্তান গর্ভে ধারণ করবেন। এখানেই শেষ নয়। ওই মহিলার দাবি ছিল, তিনি মহানায়কের কাছ থেকে ছেলে চান এবং সেই দাবি পূরণ না করে ফিরবেন না! নিজের স্বামীর পরিবর্তে উত্তম কুমারের সন্তান ধারণ করার এই অদ্ভুত ইচ্ছার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন মহানায়ক।

Uttam Kumar Laxmi Pujo: উত্তম-সুপ্রিয়ার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোতে এক সুন্দরীকে নিয়ে হইহই কাণ্ড! মহানায়কের কাছে কী চেয়েছিলেন মেয়েটি?

এরপর কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবী। মহিলাটিকে কীভাবে বাড়ি থেকে বিদায় করা যায়, তা নিয়ে তাঁরা রীতিমতো সমস্যায় পড়েছিলেন। অতিথিদের সামনে যাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে না আসে, সে জন্য তাঁকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে রাত বাড়ছিল। বাড়ির অতিথিরা তখনও রয়েছেন। অন্যদিকে, ওই মহিলাও নিজের দাবিতে অনড়। তিনি কিছুতেই খালি হাতে ফিরতে রাজি নন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিয়া দেবীকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়। তবু মহিলাটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে সিঁড়িতে বসে থাকেন বলে সেই স্মৃতিচারণে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল, তা অবশ্য স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে সেই রাতের অভিজ্ঞতা যে উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবীর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল, তা স্মৃতিচারণের বর্ণনা থেকেই বোঝা যায়।

উত্তম কুমার আজ আর নেই। সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু, থেমে গিয়েছে ময়রা স্ট্রিটের সেই লক্ষ্মীপুজোও। কিন্তু মহানায়ককে ঘিরে এমন নানা স্মৃতি আজও বাঙালির কৌতূহল জাগায়। পর্দার মহানায়ককে মানুষ কতটা আপন করে নিয়েছিলেন, এই অদ্ভুত কাহিনি যেন সেই উন্মাদনারই এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। (এই খবরটির সত্যতা যাচাই করেননি বাংলা৷ মৌমিতা রায় চৌধুরীর ফেসবুকের একটি পোস্ট থেকে উদ্ধৃত করে এটি লেখা হয়৷)

(Feed Source: news18.com)