Cyclone Arnab Big Update: মুড বদলাচ্ছে সাইক্লোন অর্ণব, বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে হু হু করে এগোচ্ছে, বাড়াচ্ছে শক্তি, ল্যান্ডফলের সময় কত হবে গতি

Cyclone Arnab Big Update: মুড বদলাচ্ছে সাইক্লোন অর্ণব, বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে হু হু করে এগোচ্ছে, বাড়াচ্ছে শক্তি, ল্যান্ডফলের সময় কত হবে গতি

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’—গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘনীভূত হয়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং আরও কয়েক ঘণ্টায় এটি ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’-এর রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লি : সাইক্লোন ‘অর্ণব’ ভোল বদলাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে! অত্যন্ত দ্রুত বাড়াচ্ছে গতি৷ গত ৬ ঘণ্টায় ১৫ কিমি গতিতে এগোচ্ছে অর্ণব, সময়ের আগেই সাইক্লোন তৈরি প্রক্রিয়া শেষ৷ আইএমডি প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল মঙ্গলবার সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরের বুকে শক্তিবৃদ্ধি করে সাইক্লোন হবে৷ কিন্তু তার বেশ খানিকটা আগেই সাইক্লোন তৈরি হয়ে গেছে৷  বর্তমানে পূর্ব-মধ্য এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকা দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে৷

এটি বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) তথ্য অনুসারে, ঝড়টি গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে’ (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) রূপ নিতে পারে বলে অশনি সংকেত জারি করা হয়েছে৷

স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ও স্থান
সময়: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার দুপুরের আগেই ল্যান্ডফলের সম্ভবনা উজ্জ্বল
স্থান: বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করবে সাইক্লোন

তীব্রতা: বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫–১২৫ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়া সহ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ল্যান্ডফলের সময় গাস্টিং স্পিড যা সর্বোচ্চ থাকে তা হচ্ছে ঘণ্টায় ১৪০ কিমি৷

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব হলো একটি সক্রিয় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়, যা বঙ্গোপসাগরের পূর্ব-মধ্য এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য অঞ্চলে সৃষ্টি হচ্ছে। “অর্ণব” (Arnab) নামটির অর্থ বাংলায় “মহাসাগর”; WMO/ESCAP প্যানেল কর্তৃক পরিচালিত আঞ্চলিক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এই নামটি প্রস্তাব করেছিল।

এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরও শক্তিশালী হয়ে একটি ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে’ (Very Severe Cyclonic Storm) পরিণত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর, বুধবার সকালের দিকে এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপাতলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী কোনো স্থানে স্থলভাগে আঘাত হানবে।

উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ১১৫–১২৫ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগের একটানা বাতাস বইছে, যার ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ১৪০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে; এর পাশাপাশি সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং সমুদ্র উত্তাল রয়েছে।

আরও একটি ঝড়ের গতিপথ বদলের সম্ভাবনা রয়েছে তা অনুসারে যদি স্থলভাগে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট গতিপথ বদলে একটি ডানদিকে বাঁক নেয় সেক্ষেত্রে বাংলার ভাগ্যে দুর্যোগের অশনি আরও বাড়তে পারে৷

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: স্থানান্তর প্রক্রিয়া
পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানার আগেই রাজ্য প্রশাসনগুলো সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং এর অংশ হিসেবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ: রাজ্যের কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় ও নিচু এলাকার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী ৫ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সোমবার সন্ধ্যা থেকে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু ১০টি এনডিআরএফ (NDRF) দল ও ১১টি এসডিআরএফ (SDRF) দলকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছেন; পাশাপাশি স্থানীয় জেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে এবং ত্রাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

ওড়িশা: ওড়িশা সরকার রাজ্যের ঝুঁকিপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর নিচু এলাকা এবং ভূমিধসের প্রবণতা রয়েছে এমন স্থানগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির নির্দেশে ৬০টি ওডিআরএএফ (ODRAF) দল, ১৭টি এনডিআরএফ (NDRF) দল এবং ২২৫টি ফায়ার সার্ভিস দল মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে মঙ্গলবার ও বুধবারের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলে ও সামুদ্রিক কার্যক্রম: বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশিতে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর, ৪,৮০০টিরও বেশি মাছ ধরার নৌকা নিরাপদে কাকিনাড়া উপকূল ও অন্যান্য বন্দরে ফিরে এসেছে।

(Feed Source: news18.com)