
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার সকালের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টির ল্যান্ডফল হতে পারে। তখন ঝড়ের গতি আরও বেড়ে এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
এই অবস্থাতেই কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী দিলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। জানিয়ে দিলেন সাইক্লোনের তীব্রতার কথা মাথায় রেখে কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। বিজয়ওয়াড়া এবং বিশাখাপত্তনম রেল বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সক্রিয় রয়েছে ওয়ার রুম। সর্বক্ষণ ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতির দিকে চোখ রেখে বসে আছেন আধিকারিকরা। এই মুহূর্তে যাত্রীদের নিরাপত্তা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। নজরে রাখা হয়েছে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার রেলপথ। কৃষ্ণ ক্যানেল, বিট্রাগুন্টা, মামিডিপুডি, বিশাখাপত্তনম, পালাসা এবং পণ্ডুরুতে রাখা হয়েছে মেরামতির সরঞ্জাম সহ রিলিফ ওয়াগন (Relief wagon) ।
এছাড়াও ডিজেল লোকোমোটিভ, পাওয়ার ইউনিট, অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে বিভিন্ন জংশনে। কিছুটা দূরে দূরেই রাখা হয়েছে আর্থমুভার, গাছ কাটার যন্ত্র । প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের গতি এবং জলের স্তর পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
বুধবার থেকে পশ্চিমবঙ্গেও থেকে রাজ্য়ের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়র কথা মাথায় রেখে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে একাধিক স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, মৎসজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন। নিরাপত্তার খাতিরে দক্ষিণ মধ্য রেল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর, ২০২৬) এবং বুধবারের ১১টি ট্রেন বাতিল করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হায়দ্রাবাদ, সেকেন্দ্রাবাদ ও মাহবুবনগর থেকে বিশাখাপত্তনমগামী তিনটি পরিষেবা, লিঙ্গামপল্লি থেকে কাকিনাদা টাউন, কাকিনাদা পোর্ট ও নরসাপুরগামী ট্রেন এবং সেকেন্দ্রাবাদ-হাওড়া ও সেকেন্দ্রাবাদ-ভুবনেশ্বর নিউ রুটের ট্রেন।
