সমুদ্র ছেড়ে যাচ্ছে নিজের উপকূল, তিরুচেন্দুর মন্দির থেকে ৭৫ ফুট পিছিয়ে গেল জল! সামনে এল ইতিহাসের রহস্য

সমুদ্র ছেড়ে যাচ্ছে নিজের উপকূল, তিরুচেন্দুর মন্দির থেকে ৭৫ ফুট পিছিয়ে গেল জল! সামনে এল ইতিহাসের রহস্য

তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলায় অবস্থিত বিখ্যাত তিরুচেন্দুর সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের সামনে মঙ্গলবার সকালে সমুদ্রের জল প্রায় ৭৫ ফুট পিছিয়ে যায়। জলস্তর কমে যাওয়ায় শ্যাওলা জমে থাকা পাথর এবং পাথরের তৈরি বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য মন্দিরে আসা ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে।

তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে সমুদ্র যেন নিজের উপকূল থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। এখানে বিখ্যাত তিরুচেন্দুর সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের সামনে মঙ্গলবার সকালে সমুদ্রের জল প্রায় ৭৫ ফুট পিছিয়ে যায়। সমুদ্রের জল পিছিয়ে যাওয়ার ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাসের পাতায় চাপা পড়ে থাকা একাধিক অনন্য রহস্য সামনে উঠে এসেছে।

সমুদ্রের জল পিছিয়ে যেতেই জলের তলায় ডুবে থাকা পাথর এবং পাথরের তৈরি একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। দৃশ্যটি দেখতে মন্দিরে আসা ভক্তদের আগ্রহও বেড়েছে। যদিও মূর্তিগুলির বয়স, উৎপত্তি এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে সেগুলি দেখতে কয়েক শতাব্দী পুরনো বলে মনে হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের জল প্রায় ৭৫ ফুট পিছিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকাতেও পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। মন্দিরের কাছে অবস্থিত সেলভা তীর্থম এলাকা পর্যন্ত জল পিছিয়ে যাওয়ায় সমুদ্রের তলদেশে থাকা পাথরগুলি দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। এই পাথরগুলির মাঝে পাথরের তৈরি বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিও দেখা যায়, যেগুলির উপর শ্যাওলা জমে ছিল।

তিরুচেন্দুর সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দির ভগবান মুরুগনের ছয়টি পবিত্র ধামের অন্যতম। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এই মন্দিরে প্রচুর সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। মন্দিরটি প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো বলে জানা যায়। মন্দিরের সামনের সমুদ্রতটও ভক্তদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এখানে এর আগেও বেশ কয়েকবার দেখা গিয়েছে যে সমুদ্রের জল নির্দিষ্ট উপকূল থেকে পিছিয়ে গিয়েছে। তবে, এবার জল পিছিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিগুলি দৃশ্যমান হয়ে ওঠায় মানুষের নজর এদিকে পড়েছে। ভক্তরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাতে মূর্তিগুলি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়। যদি সেগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকে, তাহলে সেগুলি সুরক্ষিত রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ করা উচিত।

এমন এক সময়ে এই ঘটনাটি সামনে এসেছে, যখন বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়েছে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতর (IMD) দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তিরুচেন্দুর এবং আশপাশের এলাকায় কালো মেঘ জমেছিল। মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টিও হয়েছে।

যদিও সমুদ্রের জল পিছিয়ে যাওয়া এবং এই ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে কোনও সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। উপকূলীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণ বুঝতে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত, সমুদ্রের জল পিছিয়ে যাওয়ার ফলে দৃশ্যমান হয়ে ওঠা পাথরের মূর্তিগুলির পরিচয় এবং বয়স সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। মূর্তিগুলির অবস্থা দেখে সেগুলিকে কয়েক শতাব্দী পুরনো বলে মনে হচ্ছে।

(Feed Source: news18.com)