
একটি বা দুটি নয়, চার-চারটি সূর্যের একটি সিস্টেম
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় সামনে এনেছেন এমন একটি সিস্টেম, যেখানে একটি বা দুটি নয়, চার-চারটি সূর্যের একটি সিস্টেম রয়েছে। সিস্টেমটি একে অপরের কাছাকাছি রয়েছে। বর্তমানে তিনটি তারার সিস্টেম দেখা গেলেও, পূর্বে তা চারটি তারার সিস্টেম ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবার এই ধরনের সিস্টেম আবিষ্কার করেছেন।

দুটি তারা একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছে
এই সিস্টেমে দুটি বাইনারি তারা রয়েছে। তারা একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছে। একটি বড় তারা দুটিকে প্রদক্ষিণ করে। এই সিস্টেমটি এইচডি ৯৮৮০০ টিডব্লু হাইডরে নক্ষত্রমণ্ডলে ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। বাইনারি নক্ষত্রগুলি একে অপরকে একজিনে প্রদক্ষিণ করে। দুটি নক্ষত্রের মিলিত ওজন আমাদের সূর্যের ভরের ১২ গুণ।

সিস্টেমে তৃতীয় নক্ষত্রের উপস্থিতিতে বিস্ময়
এই তিন তারার সিস্টেমকে টারশিয়ারি স্টার সিস্টেম বলা হচ্ছে। এই ট্রিপল সিস্টেমের বিশাল নক্ষত্রগুলি একসঙ্গে খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলস বোর ইনস্টিটিউটের আলেজান্দ্রো ভিগনা গোমেজ তাঁর সহযোগী গবেষক চিনের বিন লিউয়ের সঙ্গে জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন কীভাবে একটি বাইনারি নক্ষত্রের সেট এবং একটি ঘূর্ণায়মান বড় নক্ষত্রের অন্য সমন্বয় তৈরি হয়েছিল। গবেষকরা এই সিস্টেমে তৃতীয় নক্ষত্রের উপস্থিতিতে বিস্মিত। এই তৃতীয় নক্ষত্রেটি সূর্যের ভরের ১৬ গুণ। এটি বৃত্তাকার অভ্যন্তরীণ কক্ষপথে প্রতি বছর ছয়বার দুটি তারার চারপাশে যায়।

এটি একটি অনন্য ট্টিপল স্টার সিস্টেম
নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট অবজার্ভেটরি থেকে ডেটা সেট নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল তা আবিষ্কার করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি অসঙ্গতি বলে মনে হয়েছিল। পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গবষেণায় মাধ্যমে জানতে পারে এটি একটি অনন্য ট্টিপল স্টার সিস্টেম। দুই গবেষক দাবি করেন, এখন আমাদের কাছে এই অনন্য সিস্টেমের একটি মডেল রয়েছে। কিন্তু এই একটি মডেলই যথেষ্ট নয়। সিস্টেমটির ব্যাপারে আরও জানতে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করতে হবে।

এখন অনন্য সিস্টেম দেখার জন্য টেলিস্কোপে চোখ
গবেষকরা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা ডেটা খতিয়ে দেখে নিশ্চিত করতে চাইছি বিষয়টি। আমরা এটিকে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছি। দুই গবেষক এখন অনন্য সিস্টেম দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা টেলিস্কোপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তারা এখন কোনও এই সংক্রান্ত ডেটা পাঠাতে পারে কি না, তা-ই দেখার। তাহলে তার উপর ভিত্তি করে গবেষণা চালিয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
(Source: oneindia.com)
