হাতে প্রবল চোট নিয়েই রূপো জয়, সঙ্কেতের পদক উৎসর্গ সেনাকে

হাতে প্রবল চোট নিয়েই রূপো জয়, সঙ্কেতের পদক  উৎসর্গ সেনাকে

More Sports

oi-Souptik Banerjee

একেই বলে জেদ। জেতার খিদে। ক্রিকেটে অনিল কুম্বলেকে ভারত দেখেছে ভাঙা চোয়াল নিয়ে বল করে লারার উইকেট তুলে নিতে। আবার সেরকম ঘটনা দেখল বিশ্ব। এবার কমনওয়েলথের মঞ্চে। ভারতের ভরত্তোলক ভারতকে পদক এনে দিলেন যেভাবে তা অভাবনীয়। হাত মারাত্মক চোট পেলেন মঞ্চেই। দমে গেলেন না। ওয়েট লিফট করে দেশকে এনে দিলেন পদক। এই পদক তিনি উৎসর্গ করেছেন সেনাকে।

কমনওয়েলথ গেমস ২০২২-এ ভারতের জন্য রূপো পদক জিতে সঙ্কেত মহাদেব সারগার বললেন যে, “আমি ভর তোলার সময় প্রথমে একটা শব্দ শুনতে পাই এবং এটা ব্যথা দিতে শুরু করে আমাকে। প্রথমবার যখন এটা হল তখনও আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম আমি ছেড়ে দেব না এবং দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বার হওয়ার আওয়াজ হবার পরেও আমি থেমে থাকিনি”। এরপর তিনি বলেন , “আমার ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল কারণ আমি একটা পদক পেতে চেয়েছিলাম। আমার এখন প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে, আমি আমার হাতটি আলগা ছেড়ে দিতে পারছি না এবং মনে হচ্ছে ভেতর থেকে কে যেন আমার হাতটাকে টানছে। আমাকে এখন মেডিকেল টিমের কাছে যেতে হবে এবং এক্সরে করাতে হবে। আমার পায়ে কিছুই হয়নি তবে এটা হওয়ার জন্য আমার পা বেঁকে যায় তাই রুপো পদক দিতে হল দেশকে। তবে এটাও ঠিক ওই কষ্টের মধ্যেই আমার মনে জোর ছিল। তাই এটি খুব বেশি ব্যথা তখন হয়নি তবে আমি এখন সেই ব্যথা , যন্ত্রণা করতে পারছি।”

আবার তিনি এও বলেন, “আমি দুঃখিতও কিছুটা কারণ আমি সোনার জন্য পোডিয়ামে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমি ৪ বছর ধরে এর জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি নিজেকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করেছি যে আমাকে সোনা জেতাতে পারে। আমি একটু হতাশ আবার একটু খুশি , কারণ আমি একটি পদক পেয়েছি। আমি এটি সেই সমস্ত যোদ্ধাদের উত্সর্গ করতে চাই যারা জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়ে যাচ্ছেন।”

সঙ্কেত মহাদেব সারগর স্ন্যাচে প্রথম প্রয়াসে তু্লেছিলেন ১০৭ কেজি। স্ন্যাচে দ্বিতীয় প্রয়াসে তিনি তোলেন ১১১ কেজি, স্ন্যাচে তৃতীয় প্রয়াসে তিনি তোলেন সব থেকে বেশি, ১১৩ কেজি। এরপর পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে প্রথম প্রয়াসে সঙ্কেত তোলেন ১৩৫ কেজি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে দ্বিতীয় প্রয়াসে ১৪১ কেজি তুলতে গিয়ে ডান হাতের কুনুইয়ে চোট পান তিনি। যার ফলে স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ২৪৮ কেজি ভর তোলেন তিনি। এই রূপোকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উৎসর্গ করেন সারগর। দিনে ঘণ্টা করে প্যাকটিস করেন জানিয়েছেন সঙ্কেত। এ দিন নিজের মূল লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন সঙ্কেত। প্যারিস অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তাঁর লক্ষ্য জানিয়েছেন এ দিন রূপো জেতার পর।