
পৃথিবীর দ্রুততম ঘূর্ণন নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ২৯ জুন পৃথিবী সবথেকে দ্রুততম ঘূর্ণন সম্পূর্ণ করেছিল। ২০২২-এর ২৯ জুলাই তার থেকেও কম সময়ে পৃথিবী তার অক্ষপথে একবার ঘুরে আসে। ওইদিন ১.৫৯ মিলিসেকেন্ড সময় কম লেগেছিল। এই দ্রুততম ঘূর্ণন নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

পৃথিবীর ঘূর্ণন দ্রুততর হচ্ছে, প্রকাশ পারমাণবিক ঘড়িতে
পৃথিবী তার অক্ষে একবার ঘূর্ণন সম্পূর্ণ করতে সময়ে নেয় সাধারণত ২৪ ঘণ্টা। ২৯ জুলাই পৃথিবীর অক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগার কথা ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট। তার জায়গায় প্রায় ১.৫৯ মিলিসেকেন্ড কম সময়ে সই ঘূর্ণন সম্পন্ন করেছে। এটাই প্রথমবার নয় যে এমনটা হচ্ছে, কিন্তু এবারই প্রথম পারমাণবিক ঘড়ি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে পৃথিবীর এই ঘূর্ণন দ্রুততর হচ্ছে।

পৃথিবী গতি বাড়ানোর প্রমাণ মিলতেই আতঙ্ক
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৬০ সাল থেকে রেকর্ড করা হচ্ছে পৃথিবীর ঘূর্ণন তথ্য। সেই তথ্য অনুসারে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই ছিল সবথেকে ছোটো দিন। তা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। ওইদিন ২৪ ঘণ্টার থেকে ১.৪৭ মিলিসেকেন্ড কম সময়ে নিজের অক্ষে একবার প্রদক্ষিণ করেছিল পৃথিবী। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। পৃথিবী যে সম্প্রতি তার গতি আরও বাড়িয়েছে এবং তা যে ক্রমবর্ধমান, তা-ই ভাবাচ্ছে মহাকাশবিজ্ঞানী ও ভূ-বিজ্ঞানীদের।

পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিবৃদ্ধির কারণ নিয়ে জল্পনা
পৃথিবীর ঘূর্ণন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন গতির হয়। তার কারণ এখনও অজানা। বিজ্ঞানীদের অনুমান, পৃথিবীর এই ভিন্ন ঘূর্ণন গতি হতে পারে অভ্যন্তরীণ কারণে, আবার হতে পারে বাইরের স্তরের কারণেও। আবার মহাসাগরের জোয়ার-ভাটা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। ভূমিকম্প ও সুনামির কারণেও ঘটে পারে এমনটা।

পৃথিবী যদি ক্রমবর্ধমানে হারে ঘুরতে থাকে…
গবেষকরা বলেন, পৃথিবীর উপরিভাগ চ্যান্ডলার ওয়াবল নামে পরিচিত। ওই জায়গা থেকেই গতি পেতে শুরু করে পৃথিবী। সেখানকার কোনও কারণেও গতি দ্রুত হতে পারে। আবার কখনও ধীর গতিও হতে পারে। কিন্তু তা কি পৃথিবী ধ্বংসের কোনও লক্ষণ? তা নিয়ে চলছে চর্চা। পৃথিবী যদি ক্রমবর্ধমানে হারে ঘুরতে ঘুরতে লিপ সেকেন্ডের প্রবর্তন করে, তবে পারমানবিক ঘড়ির পরিমাপের সঙ্গে সমাঞ্জস্য বিধানে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু তা যে পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হবে, তার কোনও প্রামাণ্য এখনও মেলেনি।
