
#নয়াদিল্লি: বিভিন্ন স্তরে আমেরিকার সঙ্গে চলা একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে দিল চিন। চিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একাধিক সামরিক আলোচনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা-সহ একাধিক বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে চলতি বৈঠক বন্ধ করছে চিন। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্রুত পট-পরিবর্তনের ফলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকার কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে উত্তাপ চরমে ওঠে। তার পরেই প্রথমে চিন ঘোষণা করে দেয়, তাঁরা আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ বিরুদ্ধেও আমেরিকার সঙ্গে এক যোগে লড়াই করতে চায় না। যদিও আমেরিকা এই সিদ্ধান্তকে অপরিণত বলে ঘোষণা করেছে।
যে মুহূর্তে তাইওয়ানে মার্কিন প্রতিনিধির পা পড়ে, সঙ্গে সঙ্গেই রীতিমতো নড়েচড়ে বসে চিনের প্রশাসন। চিনের তরফ থেকে বলা হয়, আমেরিকা এশিয়ার এই প্রান্তে এসে এই নির্দিষ্ট অংশের শান্তি নষ্ট করছে। এ দিকে স্ব-শাসিত তাইওয়ান, যাকে চিন নিজের অংশ বলে মনে করে, স্বাগত জানায় আমেরিকাকে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। এ দিকে অভিযোগ করা হয়, পেলোসির তাইওয়ান প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ চিন সাগরে প্রবেশ করেছে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ, আর পাল্টা তাইওয়ানের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়, সে দেশের আকাশে মাঝে-মাঝেই দেখা যাচ্ছে চিনা যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি, তাইওয়ান সীমান্তে সেনা-মহড়া শুরু করার কথাও ঘোষণা করে চিন।
এর পরে অবশ্য, শুক্রবার আমেরিকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে, চিনের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, চিনের সার্বভৌমত্ত্বে কোনও ভাবেই আঘাত করেনি আমেরিকা। সেই কারণে চিনের এত ব্যস্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই। অবিলম্বে তাইওয়ান সীমান্তে সেনা মহড়া বন্ধ করুক চিন, তাতেই বরং শান্তি বজায় থাকবে।
