
আজাদি স্যাট আদতে কী
আজাদি স্যাট আদতে একটি স্যাটেলাইট। এই স্যাটেলাইটটি বিজ্ঞানীরা তৈরি করেনি। সারা ভারতের ৭৫০ জন ছাত্রী এই স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও স্যাটেলাইট মহিলারা তৈরি করলেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়াংরিং ও অঙ্ক (এসটিইএম)-এর ওপর ভিত্তি করেই ইসরোর বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে ভারতের বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের ছাত্রীরা এই স্যাটেলাইটটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

আজাদি স্যাটের গঠন
আজাদি স্যাট স্যাটেলাইটে ৮ কেজির একটি কিউবস্যাট ৭৫টি পেলোড বহন করেছে। প্রতিটি পেলোডের ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম। প্রথমে স্পেস কিডস ইন্ডিয়া নামের সংস্থাটি সারা ভারত থেকে আগ্রহী ছাত্রীদের একত্রিত করে। এরপরে ইসরো ওই ছাত্রীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের পর পেলোড তৈরির নির্দেশ দেয়। এই পেলোডগুলিতে ইউএইচএফ-ভিএইচএফ (UHF-VHF) ট্রান্সপোডার রয়েছে। এটি হ্যাম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে যা রেডিও অপারেটরদের কাছে ভয়েস এবং বিভিন্ন তথ্য পাঠাতে সাহায্য করে। এই পলোডগুলিতে সেলফি ক্যামেরাও রয়েছে। আজাদি স্যাটে কঠিন আকারে পিআইএন ডায়োট ভিত্তিক একটি রেডিয়েশন কাউন্টার রয়েছে। এটি মূলত কক্ষপথে আইনজিং রেডিয়েশন পরিমাপ করতে সাহায্য করে। এই স্যাটেলাইটে একটি দীর্ঘ পাল্লার ট্রান্সপোডারও রয়েছে। এই পেলোডগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একটি গ্রাউন্ড সিস্টেম তৈরি করা হয়ছে। এই গ্রাউন্ড সিস্টেমটিও স্পেস কিডস ইন্ডিয়ার ছাত্রীরা তৈরি করেছে।

আজাদি স্যাট স্যাটেলাইটের কাজ কী
এই স্যাটেলাইটগুলো এসএসএলভি-তে যাত্রা করবে। ছাত্রীদের তৈরি পেলোডগুলো আকার ও ওজনে ছোট। সেই কারণেই কক্ষপথে প্রতিস্থাপনের জন্য এসএসএভিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইসরো জানিয়েছে, এসএসএলভি কম সময়ে একাধিক স্যাটেলিটাইটকে কক্ষপথে স্থাপন করতে সম্ভব। এসএসএলভির মাধ্যমে কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনের জন্য নূন্যতম পরিকাঠামো প্রয়োজন। ছাত্রীদের তৈরি এই পেলোড আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মূলত ভৌগলিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এই স্যাটেলাইট জল বিষয়ক একাধিক তথ্য দিতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বনাঞ্চল, কৃষিবিদ্যা, মাটি, উপকূল অঞ্চলের একাধিক তথ্য দিতে সক্ষম।
