বন্দেমাতরম লেখা, পদ্ম আঁকা পতাকা বিবর্তিত হয়েই আজকের জাতীয় পতাকা, জানুন ইতিহাস!

বন্দেমাতরম লেখা, পদ্ম আঁকা পতাকা বিবর্তিত হয়েই আজকের জাতীয় পতাকা, জানুন ইতিহাস!

#নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ভারতকে স্বাধীন করেন ঠিকই কিন্তু চিরস্থায়ী ক্ষতও দিয়ে যান। ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে দু’টি দেশ- ভারত ও পাকিস্তানে ভেঙে দেওয়া হয়। ভারতের নিজস্ব পতাকা থাকার গুরুত্ব প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধি বলেছিলেন, “একটি পতাকা সমস্ত জাতির জন্য প্রয়োজনীয়। এর জন্য লাখ লাখ মানুষ মারা গিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে এক ধরনের প্রতীক যা ধ্বংস করাই পাপ।” তবে অনেকের বিশ্বাস পতাকার গেরুয়া, সবুজ এবং সাদা রঙ  আসলে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত। এমনটা মোটেও সত্য নয়।

ভারতীয় তেরঙা পতাকা:

ভারতের বর্তমান জাতীয় পতাকা উপরের দিকে গেরুয়া রঙ, মাঝখানে সাদা এবং নীচে গাঢ় সবুজ। সাদা অংশে একটি গাঢ় নীল চক্র রয়েছে যার ২৪ টি কাঠি রয়েছে। তবে ভারতীয় পতাকা অনেক সংশোধনের পর বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।

ভারতীয় তেরঙা পতাকার ইতিহাস ও তাৎপর্য:

ভারতের প্রথম অনানুষ্ঠানিক পতাকাটি ১৯০৬ সালের ৭ অগাস্ট কলকাতার পারসিবাগান স্কোয়ারে (গ্রিন পার্ক) উত্তোলন করা হয়েছিল। এটিও তেরঙাই ছিল কিন্তু লাল, হলুদ এবং সবুজ রঙের ছিল। হলুদ অংশে দেবনাগরি লিপিতে বন্দে মাতরম লেখা ছিল, সবুজ অংশে ৮ টি আধখোলা পদ্ম ফুল ছিল।

১৯০৭, ১৯১৭ এবং ১৯২১ সালে সংশোধনের পর, অবশেষে ১৯৩১ সালে তেরঙাকে গ্রহণের একটি প্রস্তাব পাস হয়। এতে লালের বদলে উপরের অংশে লাল রঙ করা হয়। হলুদ বদলে করা হয় সাদা। সবুজ রঙের কোনও বদল হয় না। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া আগের পতাকাটিকে নতুন করে নকশা করেন জাতির নীতিকে চিত্রিত করার জন্য এবং এতে কোনও ধর্মীয় আঙ্গিক নেই।

গেরুয়া অর্থাৎ শক্তি, সাদা সত্য এবং সবুজ উর্বরতা চিত্রিত করে। ‘বন্দে মাতরম’ লেখার বদলে গান্ধিজির চরকা বসানো হয়। ১৯৩১ সালে গৃহীত এই পতাকাটি ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধের চিহ্নও ছিল।

১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই আরেকটি সংশোধন করা হয়। প্রায় ২০০ বছরের দাসত্বের পর ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশের স্বাধীনতা লাভের কয়েকদিন আগে গণপরিষদ স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা হিসাবে কেন্দ্রে অশোকের চক্র সহ তেরঙা পতাকাকে গ্রহণ করে।

Published by:Madhurima Dutta

(Source: news18.com)